জ্বালানি সংকট
বিজেপি নেতারাই মানছেন না মোদীর আহ্বান
ইসরায়েল-ইরান সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন নাগরিকদের মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন (ডিজেল-পেট্রল সাশ্রয়, এক বছর সোনা কেনা বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর স্থগিত করা এবং গণপরিবহন বা কারপুল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন) ঠিক তখনই মধ্যপ্রদেশে তার নিজ দলের নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ দেখা গেছে সদ্য নিয়োগ পাওয়া টেক্সটবুক করপোরেশনের চেয়ারম্যান সাউবাহগায়া সিং ঠাকুরের সফরে। তিনি উজ্জয়িনী থেকে ভোপালে প্রায় ২০০টির বেশি গাড়ির বহর নিয়ে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে, যার ফলে মহাসড়ক ও রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এই বহরের কারণে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। প্রচণ্ড গরমে যাত্রী, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও দৈনন্দিন যাতায়াতকারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন, যখন রাজনৈতিক শোভাযাত্রাটি শহরের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল।
বিজেপির রাজ্য কার্যালয় থেকে ডিবি মল, বোর্ড অফিস স্কয়ার এবং আরেরা হিলস পর্যন্ত যানজটের দৃশ্য অনেকের কাছে জনসাধারণের জন্য মিতব্যয়িতার আহ্বান এবং রাজনৈতিক জাঁকজমকের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈপরীত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।
এতেই শেষ হয়নি বিতর্ক। শিবপুরীতে পিচোরের বিধায়ক প্রিতম সিংহ লোদী একটি মন্দির-সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে আরও একটি প্রায় ২০০ গাড়ির বহর নিয়ে পৌঁছান বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে খাণ্ডওয়ায় জেলা পর্যালোচনা বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ধরমেন্দ্র লোদী সাইরেন বাজানো বিশাল গাড়িবহর নিয়ে হাজির হন।
সমালোচনার মুখে নেতারাও অসঙ্গতির বিষয়টি স্বীকার করেন। ধর্মেন্দ্র লোদী প্রকাশ্যে বলেন, এত বড় বহরের কোনো যৌক্তিকতা নেই, যদিও তিনি নিজেও এমন বহরের অংশ ছিলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মেনে চলা উচিত। এ বিষয়ে আমি কালেক্টরকেও নির্দেশ দিয়েছি। বর্তমানে আমার বহরে অনেক গাড়ি রয়েছে, তবে এতগুলো গাড়ি একসঙ্গে চালানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের অবশ্যই প্রভাব পড়বে। আজ আমাদের নেতারা ই-রিকশায় ভ্রমণ করে উদ্যোগ নিয়েছেন। যদিও কিছু সমর্থক ব্যক্তিগত গাড়িতে এসেছেন। আমরা দলীয় কর্মী ও নাগরিকদের আগামী দিনে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন বা বিকল্প যানবাহন ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং ডিজেল-পেট্রলের ব্যবহার সীমিত রাখতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
তবে এসব বক্তব্যের পরও সমালোচনা আরও বেড়েছে। কারণ কিছু নেতার ই-রিকশা বা ই-স্কুটারে প্রতীকী যাত্রার দৃশ্যের বিপরীতে অন্যত্র বিশাল গাড়িবহর দেখা গেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম