নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৩ পিএম, ১৪ মে ২০২৬
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে তীব্র মন্তব্য করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শুনানির সময় আদালত জানতে চায়, গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ কমিটিতে কেন স্বাধীন সদস্য রাখা হয়নি।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, সিবিআই পরিচালকের নিয়োগ কমিটিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) থাকেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কেন এমন ব্যবস্থা নেই?

তিনি বলেন, সিবিআই পরিচালকের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি আছেন। বলা যেতে পারে, সেটা আইনশৃঙ্খলা বা আইনের শাসন রক্ষার জন্য। কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নয়? অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নয়?

আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, কেন নিয়োগ কমিটিতে সরকারের বাইরে কোনো স্বাধীন সদস্য রাখা হয়নি।

বিচারপতি দত্ত বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী একজনকে বেছে নেবেন, বিরোধীদলীয় নেতা আরেকজনকে বেছে নেবেন। মতবিরোধ হলে তৃতীয় সদস্য কি বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে যাবেন?

এর জবাবে ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি বলেন, বাস্তবে কী হবে তা তিনি অনুমান করতে চান না।

তখন বিচারপতি দত্ত মন্তব্য করেন, তাহলে তো নির্বাহী বিভাগই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে, নিয়োগ কমিটিতে মন্ত্রিসভার একজন সদস্য থাকায় কার্যত সিদ্ধান্ত ২-১ ভোটে সরকারের পক্ষেই যাবে, কারণ মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী থেকে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

বিচারপতি দত্ত আরও বলেন, যা আমাদের উদ্বিগ্ন করছে, তা হলো নির্বাহী বিভাগের এই ভেটো ক্ষমতা। সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে, কিন্তু আইনের ব্যাখ্যা দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টেরই থাকবে — সেটা পছন্দ হোক বা না হোক।

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে দায়ের করা মামলার শুনানিতে এসব মন্তব্য করে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।