এআই কি সত্যিই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে, নাকি ভয়টাই বড়?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে উদ্বেগ এখন বিশ্বজুড়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ইতিহাসের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি উদ্বিগ্ন। এক জরিপে গড়ে একজন আমেরিকান মনে করছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার চাকরি হারানোর সম্ভাবনা ২২ শতাংশ। এমনকি, ২০০৭-০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ও এই আশঙ্কা এত বেশি ছিল না।
এই উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এআই প্রযুক্তি। আরেকটি জরিপে প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন মার্কিন কর্মী জানিয়েছেন, এআই বা অটোমেশন তাদের চাকরি প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
যে চাকরি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না এআই
এআই ধনীদের আরও ধনী করবে, শ্রমিকরা হবে বেকার: জিওফ্রে হিন্টন
ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কর্মীরা ভাবছেন, তাদের কাজ কতদিন নিরাপদ থাকবে? কল সেন্টার, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, অনুবাদ, ডিজাইন, হিসাবরক্ষণ, কনটেন্ট তৈরি, গ্রাহকসেবা ও ডেটা এন্ট্রির মতো খাতগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে, ভারতের আইটি খাতে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা তীব্র। বহু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে নতুন নিয়োগ কমিয়েছে। একইভাবে ফিলিপাইনের বিপিও শিল্পেও কর্মীরা চিন্তিত, কারণ এআইভিত্তিক চ্যাটবট ও স্বয়ংক্রিয় গ্রাহকসেবা দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। ইউরোপে সাংবাদিকতা, আইনি গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।
শুধু সাধারণ মানুষই নন, উদ্বিগ্ন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নেতারাও। এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের প্রধান ডারিও আমোদেই সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্বের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও বলেছেন, এআইয়ের যুগে ‘বেশিরভাগ কাজের জন্য’ মানুষের প্রয়োজন হবে না।
ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান অবশ্য সম্প্রতি তুলনামূলক সতর্ক ভাষা ব্যবহার করছেন। তিনি বলেছেন, এআই হচ্ছে মানুষকে উন্নত ও সক্ষম করে তোলার টুল, মানুষের বিকল্প কোনো সত্তা নয়। তবে তিনিও স্বীকার করেছেন, নতুন ধরনের চাকরিতে রূপান্তরের সময় ‘বড় ধরনের পরিবর্তন ও অস্থিরতা’ দেখা দিতে পারে।
তবে অর্থনীতিবিদরা এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম হতাশাবাদী। তারা তথাকথিত ‘লাম্প অব লেবার ফ্যালাসি’ বা শ্রমবাজারকে স্থির ও শূন্যের সমান হিসেবে দেখার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের যুক্তি, প্রযুক্তি কিছু চাকরি কমিয়ে দিলেও অন্য খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করে। নতুন প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, ফলে আয় বাড়ে ও মানুষ আরও পণ্য ও সেবা কেনে, যা আবার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
বর্তমান শ্রমবাজারও এখনো বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোতে কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে চাকরিতে থাকা মানুষের হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ধনী দেশগুলোর এই জোটে বেকারত্বের হার মাত্র ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশার মতো ‘এআই-প্রভাবিত’ খাতেও কর্মসংস্থান আগের চেয়ে বেশি।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালে এআই বিপ্লব: যেসব কাজে বদলে দিলো বিশ্ব
এআই দিয়ে ‘আহত হাতের’ ছবি বানিয়ে অফিস থেকে ছুটি নিলেন কর্মী
রোবটের ‘গর্ভে’ মানবশিশু? চীনের গবেষণায় বিশ্বজুড়ে হইচই
মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের চাকরি পেতে সমস্যা শুরু হয়েছিল ওপেনএআই ২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি চালুরও আগে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সামনে খুব বড় ধরনের বিপর্যয় নাও আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশটিতে আরও ৫২ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। এতে মোট কর্মসংস্থান ৩ শতাংশ বাড়বে।
তবে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকলে বর্তমান তথ্য ও পূর্বাভাস অচল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যদি সত্যিই এআই লাখ লাখ মানুষকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বেকার করে দেয়, তাহলে সেটি হবে মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। কারণ অতীতে কোনো নতুন প্রযুক্তিই এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েনি যে তা দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বেকার রেখেছে।
ইতিহাস বলছে, প্রযুক্তির বিস্তার সবসময়ই ধীরে ধীরে হয়েছে। ২০১২ সালে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ রবার্ট গর্ডন এক গবেষণায় দেখান, ১৩০০ সালের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতিগুলোর মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বছরে কখনোই গড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হয়নি। অন্য দেশগুলো দ্রুত বাড়লেও তা হয়েছে ধনী দেশগুলোর প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পেছনে ছুটে।
এই ধীর প্রযুক্তিগত বিস্তারের কারণেই চাকরি ধ্বংসও ধীরে ঘটেছে। কৃষিখাত এর বড় উদাহরণ।
গত এক হাজার বছরে কৃষিতে বিশাল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এলেও কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা হঠাৎ করে কমে যায়নি। যুক্তরাজ্যে ১৬ শতক থেকে কৃষিতে কর্মরত মানুষের হার ধীরে ধীরে কমেছে। ২০ শতকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক ট্র্যাক্টর আবিষ্কার ও পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়লেও কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা কমতে সময় লেগেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এমনকি, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশ কৃষিক্ষেত্রে এখনো মানবশ্রমের ওপর নির্ভরশীল।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হচ্ছে ১৯ শতকের ব্রিটিশ শিল্পবিপ্লব। অনেকের মতে, এটি শ্রমিকদের জন্য ভয়াবহ ধাক্কা ছিল। ১৭৬০ থেকে ১৭৮০-এর দশকে জেমস ওয়াটের উদ্ভাবন বাষ্পীয় ইঞ্জিনকে এতটাই কার্যকর করে তোলে যে তা কারখানার শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত বাড়লেও মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর শ্রমিকদের মজুরি দীর্ঘ সময় প্রায় স্থির ছিল। ১৭৯০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে প্রকৃত মজুরি খুব কম বেড়েছিল, অথচ পুঁজিপতিরা বিপুল মুনাফা করছিলেন।
আরও পড়ুন:
বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কীভাবে সর্বাধুনিক এআই মডেলে ঝুঁকছে?
২০২৬ সালেই এআই’র আসল প্রভাব দেখতে পাবে বিশ্ব
সিলিকন ভ্যালির অনেক প্রযুক্তিনেতা এখন সেই সময়ের উদাহরণ টানেন। এই সময়টিকে ‘এঙ্গেলস পজ’ বলা হয়, যা জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের লেখার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ১৮৪০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের বস্তির অবস্থা তুলে ধরে শ্রমিকদের দুর্দশার বর্ণনা করেছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এঙ্গেলসের সেই সময়কালকে এআই যুগের জন্য নির্ভরযোগ্য মডেল হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। গবেষণা অনুযায়ী, ১৮৫০-এর দশকের আগে যুক্তরাজ্যে কর্মসংস্থানের গঠনে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। আর প্রযুক্তি কিছু চাকরি কমালেও নতুন চাকরি তৈরি করেছে আরও বেশি। ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা ৪৫ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছায়। বেকারত্বও মোটামুটি কম ছিল।
এঙ্গেলসের সময় মজুরি বৃদ্ধি ধীর ছিল ঠিকই, কিন্তু তার আগের ৫০ বছরের চেয়ে খারাপ ছিল না। এর কারণ ছিল শিল্পবিপ্লবের শুরুর দিকে উৎপাদনশীলতার ধীর বৃদ্ধি এবং ওয়াটের প্রযুক্তির ধীর বিস্তার।
১৮৩০ সাল পর্যন্ত পুরো যুক্তরাজ্যে ব্যবহৃত বাষ্পশক্তির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার হর্সপাওয়ার, যা আধুনিক ১ হাজার গাড়ির সমান।
সে সময় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা হলেও বেড়েছিল, যাকে ব্রিটিশ জনসংখ্যাবিদ স্যার টনি রিগলি ‘অসাধারণ অর্জন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা সাধারণত ভোক্তা মূল্যসূচক দিয়ে মজুরি হিসাব করেন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদনের গড় মূল্য দিয়ে হিসাব করলে শ্রমিকদের অবস্থা আরও ভালো দেখা যায়।
অর্থাৎ এআই বিপুল বেকারত্ব তৈরি করবে- এমন পূর্বাভাস সত্য হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। তবে এর মানে এই নয় যে তা কখনো ঘটতে পারে না। যদি সত্যিই বড় বিপর্যয় আসে, তাহলে প্রথম লক্ষণ হবে- যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়বে, কিন্তু প্রকৃত মজুরি বাড়বে না। মাথাপিছু জিডিপি ২ দশমিক ৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে যাবে, একইসঙ্গে করপোরেট মুনাফা হঠাৎ বেড়ে যাবে। এতে বোঝা যাবে, বাড়তি উৎপাদনের সুবিধা শ্রমিক নয়, মূলধনের মালিকরা পাচ্ছেন।
আরেকটি লক্ষণ হবে বহু শিল্পখাতে একসঙ্গে বড় ধরনের চাকরি হারানো।
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এআই নিয়ে আতঙ্ক বাড়লেও বাস্তব অর্থনৈতিক তথ্য এখনো সেই ভয়ের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২০ সালের মার্চের ৪ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি। ঘণ্টাপ্রতি গড় আয়ও স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন ব্লক, মেটা, ওরাকল ও মাইক্রোসফট কর্মী ছাঁটাই বা পুনর্গঠনের সময় এআইকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এগুলোর পেছনে মহামারির সময় অতিরিক্ত নিয়োগের প্রভাবও আছে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ইমাসের মতে, এআই নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে- মানুষ ভাবছে কোন কাজ এআই করতে পারবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত, কোন কাজ মানুষ এআই দিয়ে করাতে চাইবে না।
ইমাস বলছেন, ইতিহাসে যখনই কোনো কিছু সহজলভ্য হয়েছে, মানুষ তখন আরও ‘মানবিক’ সেবা ও অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকেছে। যেমন- বিশেষ গল্পসমৃদ্ধ পোশাক, ব্যক্তিগত যত্ন নেওয়া ডাক্তার, মনোযোগী শিক্ষক, সহানুভূতিশীল থেরাপিস্ট বা ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক। তিনি একে বলছেন ‘রিলেশনাল সেক্টর’ বা সম্পর্কনির্ভর অর্থনীতি।
তিনি কফির উদাহরণ দেন। নেসপ্রেসোর মতো যন্ত্র কফি তৈরি সহজ করে দিলেও কফিশপ কমেনি। বরং বারিস্তা ও কফিশপের সংখ্যা বেড়েছে। কারণ মানুষ শুধু কফি নয়, কফি পানের অভিজ্ঞতাও চায়।
একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে ভিসিক্যালক নামের প্রথম ইলেকট্রনিক স্প্রেডশিট চালুর পর। তখন ধারণা করা হয়েছিল হিসাবরক্ষকদের চাকরি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পরবর্তী ৪০ বছরে হিসাবরক্ষকের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে। কারণ প্রযুক্তি কাজকে সস্তা ও সহজ করায় সেই সেবার চাহিদাও বেড়ে যায়।
অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এলদার মাকসিমভ এই ঘটনাকে ‘জেভন্স প্যারাডক্স’ বলে ব্যাখ্যা করেন। উনিশ শতকে জেমস ওয়াটের উন্নত বাষ্পীয় ইঞ্জিন কয়লার ব্যবহার আরও কার্যকর করেছিল। কিন্তু তাতে কয়লার ব্যবহার কমেনি, বরং বেড়েছিল। কারণ কম খরচে আরও বেশি কাজে কয়লা ব্যবহার সম্ভব হয়েছিল।
মাকসিমভের মতে, এআইও একইভাবে নতুন চাহিদা তৈরি করতে পারে। কম্পিউটার অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করলেও মানুষের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং মানুষ আরও জটিল ও নতুন কাজ করতে শুরু করেছে।
তবে আশঙ্কার জায়গাও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এআই হয়তো সব চাকরি নেবে না, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট খাতকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আর সীমিত আকারের এই ক্ষতিই সমাজের জন্য বেশি বিপজ্জনক হতে পারে।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য প্রতিযোগিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ লাখ চাকরি হারানোর ঘটনা তার উদাহরণ। সংখ্যাটি পুরো অর্থনীতির তুলনায় ছোট হলেও নির্দিষ্ট অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের জন্য ছিল ধ্বংসাত্মক। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ ছিল সীমিত।
আরেকটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে- এআই হয়তো মানবিক সম্পর্কের দক্ষতাকেও দুর্বল করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণরা বন্ধুদের সঙ্গে আগের তুলনায় অনেক কম সময় কাটাচ্ছে। ডেটিং, সামাজিক যোগাযোগ ও বাস্তব সম্পর্কও কমছে।
অনেকে আশঙ্কা করছেন, এআই যদি মানুষের সামাজিক জীবনের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে মানবিক দক্ষতা আরও দুর্লভ হয়ে যেতে পারে। অথচ ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে এই দক্ষতাই সবচেয়ে মূল্যবান হতে পারে।
অতীতে বহু ‘স্বাভাবিক’ চাকরি মন্দার সময় হারিয়ে গেছে। পরেরবার কোন চাকরিগুলো হারিয়ে যায়, সেটিই হয়তো এআই-পরবর্তী পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত দেবে। তার আগে পর্যন্ত ডারিও আমোদেই, বিল গেটস কিংবা স্যাম অল্টম্যান- কেউই নিশ্চিতভাবে জানেন না এআইয়ের ভবিষ্যৎ পৃথিবী আসলে কেমন হবে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
এসএএইচ