আক্রমণ হলে ‘রক্তের বন্যা’ বয়ে যাবে: যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার হুঁশিয়ারি
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ‘রক্তের বন্যা বয়ে যাবে’, যার পরিণতি হবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ ও অপরিমেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে মিগুয়েল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশের পক্ষ থেকে কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের হুমকি এখন একটি সুপরিচিত বাস্তবতা। এই হুমকির অস্তিত্বই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে একটি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ’।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি এই হুমকি বাস্তব রূপ নেয়, তাহলে তা ‘রক্তের বন্যা’য় রূপ নেবে, যার পরিণতি হবে অপরিমেয় এবং যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, কিউবা কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় ও কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্যও তার নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কিউবার কোনো ধরনের শত্রুতামূলক পরিকল্পনা নেই, এমনকি অতীতেও কখনো ছিল না।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সরকার এই বিষয়গুলো ভালোভাবেই জানে। বিশেষ করে, দেশটির প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এগুলো সম্পর্কে অবগত।
মিগুয়েল আরও বলেন, কিউবা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বহুমাত্রিক চাপ ও আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কিউবার আত্মরক্ষার বৈধ ও পূর্ণ অধিকার নেই। কোনো সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা কিউবার স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার।
কিউবার প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, এই আত্মরক্ষার অধিকারকে কোনোভাবেই যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে কিউবার মতো একটি ‘শান্তিপ্রিয় জাতির’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া যায় না ও তা কোনোভাবেই ন্যায্যতা পেতে পারে না।
এই মন্তব্য আসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর, যেখানে দাবি করা হয়- গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে কিউবা ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। অ্যাক্সিওস আরও দাবি করে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো বে নৌঘাঁটি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ফ্লোরিডার ‘কী ওয়েস্টে’ হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই ড্রোনগুলোর ব্যবহার নিয়ে সম্ভাব্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। কিউবা দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার এক মিত্র নেতাকে গ্রেপ্তারের পর কিউবার জ্বালানি সরবরাহে বাধা তৈরি হয়, যার ফলে দ্বীপটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়।
উত্তেজনা আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাবেক কিউবান নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছে- এমন খবরে। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৬ সালে মানবিক সহায়তা সংস্থার দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনায় তার ভূমিকা থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এসএএইচ