তিস্তা ইস্যুতে সঠিক সময়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ


প্রকাশিত: ০৭:৩৯ এএম, ১০ এপ্রিল ২০১৭

তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে খুব শিগগিরই নয়াদিল্লি এবং ঢাকা একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবে বলে আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া সাক্ষাতকারে শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আমরা আশাবাদী। আমরা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছি। অভ্যন্তরীণ মত-বিরোধ থাকলে যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় লাগতে পারে। আমরা সেটা বুঝতে পারি। একে অন্যের সমস্যা বোঝার মতো মানসিকতা আমাদের রয়েছে এবং এটাই হচ্ছে বন্ধুত্ব। এই সমস্যা খুব দ্রুতই সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিস্তা চুক্তি দ্রুত সমাধানে আশাবাদী বাংলাদেশ। চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফরে সবচেয়ে গুরুত্ব বহন করছে তিস্তা চুক্তি। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ২২টি চুক্তি-স্মারক সাক্ষর হয়েছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে তিস্তা চুক্তি নেই। কবে নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে সে বিষয়েও কিছু জানায়নি ভারত।

এর আগে ২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মহমোহন সিং বাংলাদেশে সফরের সময়ই তিনস্তা পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কারণে সে বছর চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।

তিস্তা নদীকে উত্তরবঙ্গের প্রাণ বলে উল্লেখ করে মমতা বলেন, তিস্তায় খুব কম পানি আছে। এই নদী আমাদের প্রাণ। এই নদী উত্তরবঙ্গের প্রাণ।

সেই সঙ্গে মমতা আরো জানিয়েছেন, তিস্তার বিকল্প হিসেবে অন্য চারটি নদীর পানি বণ্টন করা যেতে পারে। তিস্তার বদলে তোর্সা, জলঢাকাসহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি নদীর পানি বণ্টনের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, তিস্তায় পানির অভাবে এনটিপিসির বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। আশপাশের জেলাগুলোতে সেচের জন্য পানি পেতে সমস্যা হয়। কিন্তু উত্তরবঙ্গের তোর্সা, জলঢাকাসহ চারটি নদী আছে যেখানে পানিরপ্রবাহ ভালো। ফলে তিস্তার বিকল্প হিসেবে এই চারটি নদীর পানি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের বিষয়টি চিন্তা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা হলো পানি নিয়ে, তিস্তা নিয়ে নয়। আপনাদের এ সমস্যা মেটানোর জন্য অন্য যেকোনো বিকল্প প্রস্তাবের বিষয় মাথায় নেব স্বেচ্ছায়। আমরা যা করতে পারি তা হলো, ভারত-বাংলাদেশে আরো অনেক নদী আছে। সেখান থেকে আমরা পানি ব্যবহার করতে পারি’।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ভারত এবং বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি নতুন নয়। আমরা সন্ত্রাস মোকাবেলা করছি। দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা ইতোমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং তা যথেষ্ট গভীর।

টিটিএন/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]