২৬ ঘণ্টায় ৪৭ বার!
২৬ ঘণ্টায় মোট ৪৭ বার কেঁপে উঠেছে নেপাল। তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে ভারত-সহ আশপাশের দেশগুলোতেও। আতঙ্কে কাঁপছে মানুষ। এই বুঝি সব কিছু হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পাহাড়ি এলাকার মানুষ বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। রাতে বাড়ির ভেতরে ঘুমোতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।
শনিবারে নেপালের ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৯। এর পর থেকেই মাঝেমধ্যে কেঁপে চলেছে। রোববারও বড় ধরনের আরেকটি কম্পন হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬.৭। শনিবারের তুলনায় যা ৩২ গুণ কম শক্তিশালী।
এই অবস্থা কতদিন চলবে তা কোনো বিশেষজ্ঞই স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। এই কম্পন এক সপ্তাহ বা এক মাস ধরে চলতে পারে। আবার এক বছর ধরে মাঝেমধ্যেই এরকম কম্পন চলতে পারে। কেন বারবার এই ভূকম্পন?
ইন্ডিয়ান মেটিওরলজিক্যাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিএল গৌতম জানিয়েছেন, একটি বড় ভূমিকম্পের পর তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় একাধিক ছোট-বড় ভূকম্পন ঘটেই থাকে। নেপালের পোখরায় শনিবার রিখটার স্কেলে ৭.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ভারতীয় ও ইউরোপিয়ান প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ঘটেছিল। ভারতীয় প্লেটটি প্রতিনিয়ত ইউরোপিয়ান প্লেটের তলায় ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সময়ই সংঘর্ষে ভূমিকম্পটি হয়।
শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পটির পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এখন যে ভূকম্পনগুলি হচ্ছে সেটির কারণ হলো ওই দুটি প্লেট এখন প্রাকৃতিকভাবে ভূগর্ভে ফাটল ভরাটের চেষ্টা চালাচ্ছে। বড় ভূমিকম্পনটির পর হিমালয় পর্বতে যে ফাঁক তৈরি হয়েছে তা ভরাটের প্রক্রিয়ায় এই পরবর্তী ভূকম্পন চলবে বেশ কিছুদিন। সাধারণত এগুলোর তীব্রতা প্রথমটির চেয়ে কম হয়। তবে কোনো কারণে যদি কয়েকদিনের মধ্যে প্রথমটির চেয়ে আরও তীব্র ভূকম্পন হয় তা হলে সেটিকেই মূল ভূমিকম্প বলা হবে। আগেরগুলোকে বলা হবে সেটির প্রাক প্রক্রিয়া।
এ রকম কি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? আইএমডি সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্প কখন, কোথায় হবে তা আগাম জানার সম্ভাবনা নেই। তবে এ রকমটা ঘটতেই পারে। তবে শনিবারের ৭.৯ মাত্রার যে ভূমিকম্পটি হয়েছিল, পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ভূকম্পনগুলো হয়েছে তারই আশপাশে ১৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মাটি থেকে ৬ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরতায়। তবে বেশির ভাগই রিখটার স্কেলে ৪.০ থেকে ৫.৮ মাত্রার। এদিকে নেপালে শিগগিরই ভূমিকম্প হতে পারে তা কিছুটা অনুমান করেছিলেন ভূ-বিশেষজ্ঞরা।
ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান তথা ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ জেমস জ্যাকসন জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার কারণে মানুষই দায়ী। মাটি ধসে যাওয়ার চেয়ে বাড়ি চাপা পড়ে অনেক বেশি মানুষ মারা গেছেন।
বিএ/পিআর