পাকিস্তানের ত্রাণ গ্রহণ করবে না নেপাল!


প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৫

শনিবারের (২৫ এপ্রিল) শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালে। এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন আরও অনেকে। এ অবস্থায় সারাবিশ্ব থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

নেপালে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে এসব দেশের উদ্ধারকর্মীরা। ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছে গেছে বন্ধুপ্রতীম দেশেগুলোর ত্রাণ সহায়তা। তবে সব দেশের ত্রাণ সাদরে গ্রহণ করলেও পাকিস্তানের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নেপাল সরকার।

নেপাল ঘোষিত হিন্দু রাষ্ট্র। অভিযোগ হিন্দুপ্রধান দেশ নেপালে ত্রাণসামগ্রী হিসেবে ‘বিফ মশলা’র প্যাকেট পাঠিয়েছে পাকিস্তান। এ ঘটনায় দেশটিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। হিন্দুপ্রধান দেশ নেপালে শুধু গরুর মাংসই নিষিদ্ধ নয়, গরু জবাই করারও দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে ক্ষুব্ধ নেপালিরা বলছে, ‘খাবারের অভাবে মারা যাব তবে পাকিস্তানি ত্রাণ স্পর্শ করবে না তারা।’

বুধবার কাঠমান্ডু বীর হাসপাতালের ভারতীয় চিকিৎসকরা ডেইলি মেইলকে জানান, নেপালের দুর্গত লোকদের ত্রাণসামগ্রীর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পাকিস্তান ‘বিফ মশলা’ পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যখন পাকিস্তানের ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম, আমরা সেখানে প্রস্তুতকৃত খাবারের প্যাকেটের সঙ্গে বিফ মশলার প্যাকেটও পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ওই খাবার স্পর্শ করিনি।

এ বিষয়ে এক নেপালি চিকিৎসক জানান, শহরের অধিকাংশ লোকজন এ ব্যাপারে সচেতন রয়েছে। তারাও তাদের এরকম কোনো ত্রাণ গ্রহণ করবে না। তারা এগুলো এড়িয়ে চলছে।

পাকিস্তান অবশ্য বিফ মশালা পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জানা গেছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তসনিম আসলাম বলেছেন, নেপালে পাঠানো তাদের তৈরি করা খাবারে কোনো গোমাংস নেই। নেপালে মানবিকতার কথা মাথায় রেখে যে ত্রাণ সরবরাহ অভিযান চলছে, তাকে ‘কালিমালিপ্ত’ না করতে তিনি ভারতীয় মিডিয়াকে অনুরোধ করেছেন।

উল্টে তার দাবি, নেপালের মানুষ বরং পাকিস্তানের পাঠানো খবর পছন্দ করেছেন, এমনকি আরও পাঠানোর আবেদন করেছেন।

বিএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।