রাজ্যসভায় প্রশংসিত ঋতব্রতের ছিটমহল-কথা


প্রকাশিত: ০৭:৫৭ এএম, ০৭ মে ২০১৫

ছিটমহল বিনিময় নিয়ে বক্তৃতা করে ভারতের রাজ্যসভায় সবার প্রশংসা কুড়ালেন সিপিএম এমপি ঋতব্রত ব্যানার্জি। সংবিধানের ১১৯তম সংশোধনীর জন্য শাসক দলের পক্ষে একটি বিল আনা হয়েছে। রাজ্যসভায় বুধবার তার ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঋতব্রত।

বিলটিকে সমর্থন করে তিনি বলেন, এ দেশের বাঙালিরা-সহ বাংলাদেশের ১৫ কোটি বাঙালি আর এই ছিটমহলে বসবাসকারী প্রায় দেড় কোটি বাঙালি তাকিয়ে রয়েছেন আমাদের দিকে। ছিটমহলের মানুষগুলো কার্যত নেই রাজ্যের বাসিন্দা হয়ে দিন কাটাচ্ছেন দিনের পর দিন। যাদের কোনো জাতীয় পরিচয় নেই, নেই জীবনধারণের প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধেও।

তারা না বাংলাদেশের, না ভারতবর্ষের বাসিন্দা। তারা বাংলায় কথা বলেন, তাদের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাসও আমাদেরই সমান। এই নেই রাজ্যের বাসিন্দাদের অধিকাংশই মুসলমান ধর্মাচরণ করেন। যাদের কোনো সম্মান নেই, যাদের কোনো প্রশাসন নেই, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নেই। আছে শুধু আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত কিছু সমস্যা।

ছিটমহল বিনিময়ে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরার সীমান্তে প্রভাব পড়বে, যা এখনো কার্যকর করা যায়নি। কার্যকর হলে এই ভূখণ্ডের কতোটা জমি চলে যাবে, এ প্রশ্ন উঠেছে। মাপজোকও করা হয় এ প্রশ্নে। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কে লাভবান হবে এ প্রশ্নের চেয়ে জরুরি হলো, জিতবে মানবিকতা।

কিছুটা ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ করে ঋতব্রত বলেন, আমি একটি উদ্বাস্তু পরিবার থেকে এসেছি। জন্ম আমার ৭১ সালের পর। কিন্তু কলোনিতে উদ্বাস্তু পরিবারে থাকার ফলে জেনেছি ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাহাত্ম্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলা ভাষায় বিখ্যাত সেই বক্তৃতাও তুলে ধরেন ঋতব্রত।

বলেন, তাই এ ঐতিহাসিক বিলকে সমর্থন করছি। বাঙালিরা দেশভাগ করেননি, কিন্তু ভুগেছেন। তেমনি  ছিটমহলের বাসিন্দারাও দেশভাগ করেননি, তারা ভুগছেন বছরের পর বছর। আজ তাই এই বিল সমর্থনের সুযোগে জানাই, দেশ নয়, জিতুক মানবতা, মানুষ। ঋতব্রতর বক্তৃতা শুনে শাসক, বিরোধী সমস্ত দলের সদস্যরাই করতালি দিয়ে উৎসাহিত করেন। পরে অনেকেই কাছে এসে পিঠ চাপড়ে দেন এই তরুণ বামপন্থি সাংসদের।

বিএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।