‘গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম’ সম্মাননা পেলেন খাশোগি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ০২ জুন ২০১৯

সৌদি কিলিং স্কোয়াডের হাতে নিহত ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক জামাল খাশোগি মরণোত্তর সম্মাননা পেলেন। সংবাদপত্র ও সংবাদ প্রকাশকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজপেপারস অ্যান্ড নিউজ পাবলিশার্স’ (ডব্লিউএএন-আইএফআরএ) খাশোগিকে ‘গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম’ নামের সম্মাননা প্রদান করেছে।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ৭১তম ‘ওয়ার্ল্ড নিউজ মিডিয়া কংগ্রেস’, ২৬তম ‘ওয়ার্ল্ড এডিটর্স ফোরাম’ ও তৃতীয় ‘উইমেন ইন নিউজ সামিট’ চলাকালে গত ১ জুন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য বার্ষিক এ পুরস্কার দেয়া হয়। ওয়ার্ল্ড এডিটরস ফোরামের প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যালাওয়ের কাছ থেকে খাশোগির পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন সৌদি সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার শাফা আল আহমেদ।

খাশোগিকে সম্মাননা দেয়া নিয়ে সংগঠনটি বলছে, ‘আপোষহীন ও মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে নিজের মত প্রকাশের অধিকার চর্চার মাধ্যমে ক্ষমতার মুখোমুখী দাঁড়িয়ে সত্য প্রকাশের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ত্যাগ স্বীকার করে এবং অকাল মৃত্যুর শিকার হয়েও খাশোগি সাংবাদিকের প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হননি।

স্বেচ্ছানির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর ২০১৭ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত খাশোগির প্রথম নিবন্ধকে উদ্ধৃত করে ক্যালাওয়ে বলেন, ‘যখন আমি মনের কথা প্রকাশের সাহস দেখানো বিদ্বৎজন ও ধর্মীয় নেতাদের ভয়, চাপ, আটক ও প্রকাশ্য অপমানের কথা বলি এবং তারপর বলি যে আমি সৌদি আরবের। তখন কি আপনার অবাক হন?’

খাশোগি বিয়ে সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত বছর ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে যান। তিনি কনস্যুলেট থেকে আর বের হননি। তাকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে হত্যা করে সৌদির পাঠানো কিলিং স্কোয়াড।

সৌদি আরব প্রথমে খাশোগিকে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে খাশোগিকে কনসল্যুটে হত্যার কথা শিকার করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

খাশোগি হত্যার পেছনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি ছিলেন এর নেপথ্যে এন খবর ছড়িয়ে পড়ে। যুবরাজের কিছু ঘনিষ্ঠের এ হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ আসতে থাকে। গোয়েন্দা তথ্যও এর পক্ষে কথা বলে কিন্তু যুবরাজ বিষয়টি জানেন না বলে অভিযোগ উড়িয়ে দেয় সৌদি আরব।

উল্লেখ্য, ১৯৬১ সাল থেকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে প্রতি বছর ‘গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম’ পুরস্কার দেয় ডব্লিউএএন-আইএফআরএ। তাদের বার্ষিক সম্মেলনে এই পুরস্কার দেয়া হয়।

এসএ/জেআইএম