১৯তম দেশ হিসেবে আমিরাতে করোনাভাইরাসের হানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৫ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২০

বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে অন্তত ১৮টি দেশে এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে চীনের উহান থেকে ফেরা একটি পরিবারের সদস্যদের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। বুধবার আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

তবে ঠিক কতজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বা কোথায় তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সেটা গোপন রাখা হয়েছে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাইরাস আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

আমিরাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহনকেন্দ্র। তাদের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের তৃতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। দেশটির সাতটি অঞ্চলের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের বসবাস আবুধাবি ও দুবাইয়ে।

গত সপ্তাহে দুবাই এবং আবুধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চীন থেকে ফেরা সব যাত্রীকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে।

ভাইরাস আতঙ্কে এরই মধ্যে বেশ কিছু এয়ারলাইন্স চীনমুখী ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। যদিও আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এমিরেটস জানিয়েছে, বুধবার তাদের সব ফ্লাইট যথারীতি ছেড়ে গেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩২ জন, আক্রান্ত প্রায় ছয় হাজার।

চীন ছাড়াও ১৮টি দেশের অন্তত ৭৮ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চীনা গণমাধ্যম সিনহুয়ায় এক বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করতে পারে।

চীন ছাড়াও থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং তাইওয়ানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসরায়েলেও এক রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এ ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে চীনে সফর করেছেন এমন লোকজনের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। সে কারণে অনেক দেশই এ ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন সফরে নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এদিকে, প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গবেষণাগারে করোনাভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। একে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তারা।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ কী?
এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর ও শুষ্ক কাশি হতে পারে। এর সপ্তাহখানেক পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। তবে এসব লক্ষণ মূলত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই জানা গেছে।

সেক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একদম প্রাথমিক লক্ষণ কী বা আদৌ তা বোঝা যায় কি-না তা এখনও অজানা। তবে নতুন এই করোনাভাইরাস যথেষ্ট বিপজ্জনক। সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের লক্ষণ থেকে এটি মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্তও নিয়ে যেতে পারে।

কেএএ/টিটিএন/এমকেএইচ

টাইমলাইন