পাকিস্তানে একাধিক ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু শহরের একটি হাসপাতালে বিস্ফোরণে আহত এক ব্যক্তির সঙ্গে স্বজনরা/ ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পৃথক তিনটি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক। নিহত বেসামরিকদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এসব হামলা ঘটে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হওয়া এসব ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আবারও বেড়ে গেছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও তীব্র সন্ত্রাস দমনে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

এই মাসের শুরুতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। ওই হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত ও আরও ১৬৯ জন আহত হয়েছিল।

নাম না প্রকাশের শর্তে পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাজাউর জেলার একটি সেমিনারির (স্নাতক স্কুল যা ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) মধ্যে বোমাভর্তি গাড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, হামলার ফলে সেমিনারির ভেতরে থাকা পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের আট সদস্য নিহত হন ও ১০ জন আহত হন। সেই সঙ্গে বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

আরেকটি হামলা হয়েছে বান্নু শহরে। সেখানে একটি রিকশায় পেতে রাখা বোমা মিরিয়ান পুলিশ স্টেশনে বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৭ জন আহত হন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ

খাইবার পাখতুনখাওয়ার শাংলা জেলায় পৃথক এক অভিযানে তিনজন পুলিশ সদস্য ও তিনজন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশ জানায়, নিহত তিন ‘সন্ত্রাসী’ চীনা নাগরিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন পাকিস্তানে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। তবে এসব প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে ও চীনা নাগরিকরা বেশ কয়েকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

গত বছরের মার্চে গাড়িতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে একটি বড় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত পাঁচ চীনা নাগরিক ও তাদের চালক নিহত হন। বিস্ফোরণে গাড়িটি পাহাড়ি কারাকোরাম হাইওয়ের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়।

চীন পাকিস্তানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র। আর্থিক সংকটে থাকা ইসলামাবাদকে বারবার ঋণ সহায়তা দিয়েছে দেশটি। চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক কোরিডরের (সিপিইসি) আওতায় এরই মধ্যে পরিবহন, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে হাজারও কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বেইজিং। এটি চীনের বহুজাতিক ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের অংশ।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।