ঈদের দিন রাজস্থানে সংঘর্ষ, কারফিউ জারি
রাজস্থানের যোধপুরে পতাকা টানানো নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল সোমবার (২ মে) রাতে। চললো মঙ্গলবার ঈদের দিনও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। কারফিউ জারি করা হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। গুজব ছড়ানো ঠেকাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট সেবা। খবর এনডিটিভির।
যোধপুর হলো রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের শহর। তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এখান থেকেই। সেখানে সোমবার জালোরি গেট এলাকায় পতাকা টানানো নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ শুরু হয়।
যোধপুরে তিনদিন ধরে পরশুরাম জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরও। দু’পক্ষের লোকজনই বিভিন্ন জায়গায় পতাকা টানাচ্ছিলেন। জালোরি গেট এলাকায় একটি জায়গায় পতাকা ও লাউডস্পিকার বসানো নিয়ে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণ্ডগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা থানা আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
Fresh Clashes In Jodhpur On Eid, Internet Suspended https://t.co/7FksH4yBDn pic.twitter.com/iZ6WyqAVX9
— NDTV (@ndtv) May 3, 2022
মঙ্গলবারও শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাথর নিক্ষেপ ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। পাথরের আঘাতে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
উদয় মন্দির, নাগোরি গেট, খন্ডা ফলসা, প্রতাপ নগর, দেব নগর, সুর সাগর এবং সর্দারপুরা থানা এলাকায় বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। গুজব ছড়ানো ঠেকাতে যোধপুরে ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে।

যোধপুরের পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের আঘাত গুরুতর নয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবাইকে শান্তি বজায় রাখতে বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। টুইটারে তিনি বলেছেন, যোধপুর ও মেওয়ারের ঐতিহ্য হলো ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব। আমি সব পক্ষের কাছে মিনতি করছি, তারা যেন শান্তি বজায় রাখেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করেন।
গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের অন্তত পাঁচটি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে। রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী, রোজা পালনের সময় মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, গুজরাট, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলো অশান্ত হয়েছে। এবার রাজস্থানেও সেই একই ঘটনা ঘটলো।
কেএএ/জেআইএম