যুদ্ধের মধ্যে তেল বেচে সৌদি আরামকোর দ্বিগুণ লাভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে তেল বিক্রি করে গত বছর একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভ করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়াত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। রোববার (১৪ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল থেকে জুন) তারা ৪ হাজার ৮৪০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে৷

গত বছর একই সময়ে সৌদি আরামকোর লাভ হয়েছিল ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এবার প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি লাভ হয়েছে৷ এর আগে প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) আরামকোর লাভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার৷

অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ৮ হাজার ৭৯০ কোটি ডলার লাভ করেছে সৌদি আরামকো৷ গত বছর একই সময়ে তাদের লাভের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭২০ কোটি ডলার৷

Aramco--1

করোনা মহামারির পর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় তেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল৷ গত জুন মাসে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল তেলের দাম৷ এরপর আবার কমলেও এখন পর্যন্ত তা ১০০ ডলারের আশপাশেই রয়েছে৷

সৌদি আরবের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস আরামকো। সৌদি সরকার রাজস্ব আয়ের বিকল্প উৎসের সন্ধান করলেও এখন পর্যন্ত তেল-গ্যাস বিক্রি থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় তাদের। আরামকো প্রেসিডেন্ট আমিন নাসের আশা করছেন, চলতি দশকে তেলের চাহিদা আরও বাড়বে৷

বর্তমানে দিনে এক কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে সৌদি আরব৷ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত মাসে জানিয়েছিলেন, দেশটির সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষমতা দিনে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল৷

সৌদি তেলের প্রধান ক্রেতা চীন (২০২০ সালে ২ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার)৷ এরপর রয়েছে জাপান (১ হাজার ৫১০ কোটি), দক্ষিণ কোরিয়া (১ হাজার ২৮০ বিলিয়ন), ভারত (১ হাজার ১৮০ বিলিয়ন) ও যুক্তরাষ্ট্র (৬ হাজার ৬০ কোটি)৷

Aramco--1

আরামকোর যাত্রা শুরু হয় ১৯৩৩ সালে৷ তখন নাম ছিলো অ্যারাবিয়ান অ্যামেরিকান অয়েল কোম্পানি৷ সেসময় এর সঙ্গে যুক্ত ছিল স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি অব ক্যালিফোর্নিয়া, যা বর্তমানে শেভরন নামে পরিচিত৷

সত্তর ও আশির দশকে ধীরে ধীরে আরামকোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে থাকে সৌদি সরকার৷ ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নামকরণ করা হয়৷

সৌদি সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণও করে দেশটির সরকার৷ সরকারের নীতি অনুযায়ী তেল উৎপাদন বা সরবরাহ বাড়ায়-কমায় আরামকো৷

২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর বাজারে প্রথমবারের মতো শেয়ার ছাড়ে আরামকো৷ রিয়াদের স্টক এক্সচেঞ্জে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিক্রি করে দুই হাজার ৫৬০ কোটি ডলার মূলধন সংগ্রহ করে তারা, যার মাধ্যমে চীনা ই-কমার্স কোম্পানি আলিবাবাকে পেছনে ফেলে রেকর্ড গড়ে প্রতিষ্ঠানটি৷

প্রাথমিকভাবে আইপিও বিক্রির মাধ্যমে আরামকোকে দুই লাখ কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ৷ সেখানে মূলধন দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারে৷ তারপরও বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় সৌদি আরামকো৷

২০১৯ সালে খুব বেশি সময় আরামকো শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি৷ সেই জায়গা দখল করে নেয় অ্যাপল৷ ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর তেলের দাম বেড়ে চলায় আরামকোর শেয়ার দরও বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে৷ গত ১২ মে আরামকোর মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার৷ এতে আবারও অ্যাপলকে হটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় তারা। এখন সেই তালিকায় আরামকোর অবস্থান দুই নম্বরে৷

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

কেএএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।