কাতার থেকে এলএনজি কিনতে ২৭ বছরের চুক্তি করলো চীন
চীনা প্রেট্রোলিয়াম শোধনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিনোপেক’ এর সঙ্গে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংক্রান্ত চুক্তি করেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’। ২৭ বছর মেয়াদী এ চুক্তির আওতায় চীনকে ৪০ লাখ টন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে কাতার কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২১ নভেম্বর) দোহায় চুক্তিপত্রে সই করার আগে কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাদ আল-কাবি বলেন, কাতার এনার্জির এ চুক্তি নর্থ ফিল্ড ইস্ট গ্যাসক্ষেত্রের জন্য একটি মাইলস্টোন। কোম্পানিটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় একক বাণিজ্যিক চুক্তি। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিগুলো ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কারণ এ চুক্তি ২০৫০ এর দশক পর্যন্ত চলবে। তাছাড়া, চীনসহ ইউরোপের যেসব ক্রেতারা তরল গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চান, তাদের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা চলছে।
কাতার এরই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া নর্থ ফিল্ড ইস্ট সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে তুলবে দেশটি।
অনেকে মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে পুরো বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইউরোপে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, তা কমাতে সাহায্য করতে পারে কাতার। তাছাড়া, ইউরোপও এখন জ্বালানি আমদানি ও দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে রাশিয়ার বিকল্প খুঁজছে। এক্ষেত্রে কাতার হয়ে উঠতে পারে উপযুক্ত গন্তব্য।
এ বছরের শুরুর দিকে ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটাল এনার্জির সঙ্গে চুক্তি পাঁচটি চুক্তি করে কাতার এনার্জি। যার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে থাকা নর্থ ফিল্ড ইস্ট গ্যাসক্ষেত্রের সম্প্রসারণ ও ২০২৭ সালের মধ্যে তরল গ্যাস উৎপাদনের বাৎসরিক পরিমাণ ৭৭০ লাখ টন থেকে ১২ কোটি ৬০ লাখ টনে উন্নীত করা।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। বিশেষ ইউরোপে গ্যাসসংকট প্রকট হয়ে ওঠে। কেন না, পুরো ইউরোপের ৪০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করতো রাশিয়া। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পুতিন সরকার।
সূত্র: রয়টার্স
এসএএইচ