ভুলে নিজেদের শহরেই বোমা ফেললো রুশ যুদ্ধবিমান
ইউক্রেনে হামলা চালাতে গিয়ে ভুল করে নিজেদের শহরেই বোমা ফেলেছে একটি রুশ যুদ্ধবিমান। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) রাতে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ শহরে এ ঘটনা ঘটে। এতে একটি সড়কের মধ্যে ৪০ মিটারের গর্ত তৈরি হয়েছে, একটি গাড়ি উড়ে পার্শ্ববর্তী ছাদে গিয়ে পড়েছে এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কেউ প্রাণ হারাননি। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আরআইএ নভোস্তি ও তাসের খবর অনুসারে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে বেলগোরোদ শহরে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। বৃহস্পতিবার রাতে শহরটিতে বোমা ফেলে একটি রুশ এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমান।
আরও পড়ুন>> রাশিয়ার ‘শুভবুদ্ধির উদয়ে’ চীনেই ভরসা পশ্চিমাদের
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০ এপ্রিল মস্কো সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ রুশ অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমান বেলগোরোদ শহরের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় একটি অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।

বেলগোরোদের গভর্নর ব্যাচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ টেলিগ্রামের এক পোস্টে বলেছেন, ঘটনাটি শহরের কেন্দ্রীয় রাস্তাগুলোর একটির সংযোগস্থলে ঘটে। এতে ২০ মিটার ব্যাসার্ধের বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ধাক্কায় একটি গাড়ি উড়ে গিয়ে পাশের একটি দোকানের ছাদে পড়েছে।
আরও পড়ুন>> ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
বেলগোরোদের মেয়র ভ্যালেন্টিন ডেমিডভ জানিয়েছেন, আশপাশের বেশ কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমান এয়ার-টু-এয়ার, এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে বেলগোরোদে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা জানায়নি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন>> গোপন নথিতে গুমর ফাঁস: ইউক্রেনে লড়ছে পশ্চিমাদের বিশেষ বাহিনীও
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণ ও বোমা হামলার শিকার হয়েছে বেলগোরোদ অঞ্চলটি। এই সপ্তাহের শুরুর দিকেও সেখানকার একটি গ্রামে ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেন গভর্নর গ্ল্যাডকভ।
মিডিয়ার খবর অনুসারে, ওইদিন দুটি ড্রোন দিয়ে স্থানীয় একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি ইউক্রেন।
কেএএ/