এক বছরে ৭ নবজাতককে হত্যা
এক বা দুটি হত্যাকাণ্ড নয়, মাত্র এক বছরের মধ্যেই সাতজনকে হত্যা করেছেন তিনি। তাও আবার এদের সবাই ছোট্ট শিশু। পেশায় তিনি একজন নার্স। মহান এই পেশায় থেকে একে একে সাত নবজাতককে হত্যা করেন তিনি। এই ঘটনা যেন সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। গত এক বছরে ছোট্ট ফুটফুটে শিশুদের হত্যা করে বহু মায়ের বুক খালি করেছেন লুসি লেটবি নামের ৩৩ বছর বয়সি এই নার্স।
ইংল্যান্ডের একটি হাসপাতালের নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে সাত শিশুকে হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ওই নার্স। আরও ছয় শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে ভয়ানক শিশু হত্যাকারী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সবগুলো শিশুকেই তিনি ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছেন।
আরও পড়ুন: স্ত্রী-মেয়েকে খুনের পর সাবেক সেনা সদস্যের আত্মহত্যা
গত বছরের অক্টোবর থেকেই লুসি লেটবির বিচার শুরু হয়। যেসব শিশুরা অসুস্থ বা প্রিম্যাচিউর ছিল তাদের শরীরে ইনজেকশন দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে, অতিরিক্ত দুধ খাইয়ে বা ইনসুলিন দিয়ে হত্যায় তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন।
উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে ২২ দিন ধরে আলোচনার পর তার বিরুদ্ধে চুড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে।কয়েকজন শিশুকে একাধিকবারের প্রচেষ্টায় মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। পাঁচ ছেলেশিশু ও দুই মেয়েশিশুকে হত্যা এবং আরও কয়েকজন নবজাতককে হত্যায় অভিযুক্ত হন তিনি।
২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কাউন্টেস অব চেস্টার হসপিটালে রাতের শিফটে কাজ করার সময় লুসি একের পর এক শিশুকে হত্যা করেছেন। ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে কয়েক মাস ধরে চলা এই মামলার রায়ে তাকে সবচেয়ে ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল শিশু হত্যাকারীদের একজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রয়োজনে ১০০০ বছর জেলে থাকতে রাজি ইমরান খান
সবগুলো শিশুকে তিনি এমনভাবে হত্যা করেছেন যা সহজেই ধরা পড়েনি। এদিকে চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে সন্দেহের কথা জানালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি এ বিষয়ে পুলিশকেও অনেক দেরিতে জানানো হয়েছে অভিযোগ উঠেছে।
২০১৫ সালের অক্টোবরে ওই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক প্রথম লুসির ব্যাপারে সন্দেহের কথা জানান। সে সময় তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালের জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যেই তিনি পাঁচ নবজাতককে হত্যা করেন। ২০১৬ সালের জুনে বাকি দুই নবজাতককে হত্যা করেন লুসি।
টিটিএন