ভারত

স্ত্রী-মেয়েকে খুনের পর সাবেক সেনা সদস্যের আত্মহত্যা

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি কলকাতা
প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২৩

 

স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করার পর নিজে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক এক সদস্য। শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকালে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে পশ্চিমবঙ্গের দমদম পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত সেনা সদস্যের নাম গৌতম ব্যানার্জি (৪৮), তার স্ত্রী দেবিকা ব্যানার্জি (৪৪) ও তাদের একমাত্র মেয়ে দিশা ব্যানার্জি (১৯)।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে মধ্যমগ্রামের কাছে রেল লাইনের উপর থেকে গৌতম বন্দোপাধ্যায়ের ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার হয়। এরপরে তার বাড়িতে এসে পুলিশ দেখতে পায়, বাইরের দরজায় তালা ঝোলানো। অনেক ডাকাডাকি করার পরও কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে, তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। ঢুকেই গৌতমের স্ত্রী দেবিকা ও তাদের মেয়ে দিশার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা।

jagonews24

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন গৌতম। সেই সঙ্গে চলছিল পারিবারিক অশান্তি। বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট রাতে মদ্যপান করে বাড়ি ফেরেন গৌতম। কিন্তু নিজের স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে বসবেন তিনি, তা ভাবতেও পারছেন না গৌতমের প্রতিবেশীরা।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাশুড়ি ছায়া চক্রবর্তী বলেন, আমার নাতনি খুবই ভালো ছিল। গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা গল্প করেছি। আমার জামাইও ভালো ছিল। হয়তো কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছি। সে তো সবার বাড়িতেই হয়। কিন্তু তার জেরে এ ধরনের ঘটনা দেখতে হবে, সেটা কোনো দিনও ভাবিনি।

প্রতিবেশী সুতোপ কর জানান, গৌতম, তার স্ত্রী ‍ও মেয়ে সবাই খুব ভালো ছিল। সবসময় তাদের হাসিখুশি দেখতাম। যেকোনো অনুষ্ঠানে ওরা সবাই আসতো। কোনোভাবেই আমাদের সন্দেহ হয়নি যে, এই পরিবারে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে স্ত্রী ও মেয়েকে গলা কেটে খুন করেন। পরে মধ্যমগ্রাম রেল লাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ডিডি/এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।