জিয়াউল আহসানকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা রুজু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই মামলায় আজ তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-ঢাকা-১ এ দায়ের করা এ মামলায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহানকেও আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর তদন্ত শুরু হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিয়াউল আহসানকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন জানানো হলে ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

দুদক সূত্র জানায়, বাদীর টাইপকৃত এজাহার ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেল ৪টায় গ্রহণ করে সজেকা, ঢাকা-১ এর মামলা নম্বর ৭৬ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। পাশাপাশি ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইন লঙ্ঘন করে নিজ হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা দেন, যা অনুমোদিত সীমার অনেক বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, জিয়াউল আহসানের নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। এসব অর্থ তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত জিয়াউল আহসানের মোট বৈধ আয় দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বিপরীতে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, ব্যয় ও দায় বিবেচনায় জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি।

তদন্তে আরও উঠে আসে, তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি এতিমখানার ব্যাংক হিসাবেও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তকালে এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।

মামলার ঘটনাস্থল হিসেবে বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময়কাল ধরা হয়েছে ১৯৯১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এমডিএএ/এসএনআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।