হাজতখানায় অর্থ লেনদেন

ভিডিও ধারণে সাংবাদিককে ধন্যবাদ দিয়ে ‘ছাড় নয়’ বার্তা ডিএমপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৬ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীর মধ্যে গোপনে অর্থ লেনদেনের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে/ছবি: ভিডিও থেকে কোলাজ

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভেতরে পুলিশ সদস্য ও এক আইনজীবীর মধ্যে কথিত অর্থ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি ভিডিও ধারণকারী সাংবাদিকের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ২৪-এর সাংবাদিক আল-আমিন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জাগো নিউজকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এই সময় তিনি ভিডিও ধারণের জন্য ওই সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানান।

এসময় এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আদালত প্রাঙ্গণকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এ ধরনের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও যেকোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আশিস বিন হাছান আরও বলেন, ‘কয়েকজন অভিযুক্তের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

এর আগে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও ভিডিও প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মীর মোশাররফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ডিএমপি জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন
হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম, কারাগারে প্রেরণ
আদালতে আইনজীবীর সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল, পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

এদিন ফাহিম চৌধুরীকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় ভেতরে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য ও এক আইনজীবীর মধ্যে গোপনে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফাহিমকে মামলায় ‘সহজ সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই অর্থ লেনদেনের চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মীর মোশাররফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইনজীবী জোর করে তাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন, যেন তিনি আসামির কাছে খাবার পৌঁছে দেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি এবং বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, যে-ই অপরাধ করুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সে পুলিশ, আইনজীবী বা অন্য যে কেউ হোক।

ডিএমপির উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
এমডিএএ/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।