আ’ লীগের সময়ে ৩২৯৯ গুম-খুনের বিচার চেয়ে ফের ট্রাইব্যুনালে বিএনপি
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত গুম, ক্রসফায়ার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৩ হাজার ২৯৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি পৃথক আবেদন করেছে বিএনপি। এসব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চেয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযোগ করেছিল দলটি।
সোমবার (১১ মে) চিফ প্রসিকিউটরের কাছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান নতুন এই আবেদনগুলো জমা দেন। তিনি দলটির মামলা, গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষক সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন। আবেদনের পাশাপাশি ঘটনার প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পুনরায় দাখিল করেছেন বিএনপির পক্ষে। সেখানে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এসব বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এসব অভিযোগ করা হয়েছিল। যদিও একবার অভিযোগ জমা হলে আবার দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তার পরও যিনি অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি বলেছেন, আপনি নতুন চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে আবারও অভিযোগ জমা দিয়েছি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে এ সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। যদিও এ সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
বিএনপির একটি আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৬ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য গত বছরের ৮ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৭৫ জনকে গুম করার ঘটনায় বিচার চেয়ে গত বছরের ২৪ আগস্ট আবেদন করা হয়েছিল। সেখানে ভুক্তভোগীদের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সালাহ উদ্দিন খান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত ন্যায়বিচার ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করছে। দলটির চেয়ারম্যানও এ ব্যাপারে বিচার নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের নথিপত্র পুনরায় ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় আবেদনে বিএনপি বলেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে ৮৪৮ জন শহীদ হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের ১৫৩ জন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩৭৩ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক রয়েছেন।
এফএইচ/এমএমকে