সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৩ জুনের মধ্যে দিতে নির্দেশ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৩ জুনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রেজাউল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ, যার প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে আদালতে আবেদন করেন।
আরও পড়ুন
মৃত্যুর আগের দিন এই অভিনেতাকে কেন খুঁজেছিলেন সালমান শাহ
আলোচনায় সালমান শাহের সুইসাইড নোট
আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন আবেদন করেন তার বাবা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন রাজধানীর রমনা থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
মামলায় সামিরা হক ছাড়াও আসামি করা হয়েছে শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদকে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সালমান শাহকে বাসার শয়নকক্ষে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের দাবি, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা।
এমডিএএ/কেএসআর