ধর্ষণ মামলার মৃত কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার: পাঁচজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৯ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন- রিনা বেগম ওরফে লতা বেগম, সোহাগ ব্যাপারী, রাব্বী, আল আমিন ও বছির।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টম্বর) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ভাটারা থানায় মানবপাচার আইনে করা মামলার সুষ্ঠুতদন্তের জন্য তাদের পাঁচদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা হাকিম মামুনুর রশীদ প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে একটি চক্র। বর্তমানে তার বয়স ২১ বছর। পাঁচ বছর ধরে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথাও বলতে দেয়নি অসাধু চক্রটি। তার পরিবার জানতো সে মারা গেছে। অবশেষে পাঁচ বছর পর ভিকটিম মেয়েটিকে জীবিত উদ্ধার ও চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)।

মেয়েটির বাবা-মা দরিদ্র হওয়ায় তারা মেয়েকে খালা বাসনা বেগমের কাছে রাখেন। বাসনা বেগম লতা বেগম নামে এক নারীর বাসায় মেয়েটিকে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠিয়ে দেন। লতার স্বামী ওই যুবতীকে দীর্ঘ পাঁচ বছর লুকিয়ে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) পিবিআই’র ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মেয়েটির বাড়ি গোপালগঞ্জ। ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল সোহাগ ব্যাপারী নামে একজন গাড়িচালক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে নুরের চালা এলাকার গলির সামনে নামিয়ে দেয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল মেয়েটি। তার পরিবার ভেবেছিল সে মারা গেছে।’

এ ঘটনার আটদিন পর পূর্ব ভাটারার চিতাখোলা ব্রিজের পূর্ব পাশে বালুর মাঠে অজ্ঞাত পরিচয় এক কিশোরীর বস্তাবন্দি ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে ভাটারা থানা পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়েটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করে এবং সুযোগ বুঝে বালুর মাঠে পুতে রাখে। এই ঘটনা শুনে মেয়েটির খালা বাসনা বেগম আত্মীয়-স্বজনসহ থানায় গিয়ে আংশিক বিকৃত কিশোরীর গলা কাটা লাশ দেখে ও তার পরিহিত জামা দেখে পুলিশকে জানায়, এটা ভিকটিমের মরদেহ।

এ বিষয়ে ভিকটিমের খালা প্রথমে থানায় একটি জিডি করেন এবং পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

পিবিআইয়ের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘এই মামলায় ভাটারা থানা পুলিশ ২০১৯ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও প্রতিবেদনে ‘তথ্যগত ভুল’ আছে উল্লেখ করে এটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ জোনের উপ-পরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) মাসুদ খান তদন্ত করে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মেয়েটিকে উদ্ধার করেন।’

তিনি বলেন, ‘পিবিআইয়ের একটি বিশেষ টিম মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় ফরিদপুর থেকে ভিকটিমকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

জেএ/ইএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।