‘ফারাজ’ সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ হবে কি না জানা যাবে আজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৮ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
ফারাজ সিনেমার পোস্টার

ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘ফারাজ’ বাংলাদেশে প্রদর্শন বন্ধ হবে নাকি চলবে তা জানা যাবে আজ।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে আদেশ দেবেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

এর আগে বাংলাদেশের সিনেমা হল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘ফারাজ’ মুক্তি না দেওয়ার জন্য করা এক রিটের বিষয়ে রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রাথমিক শুনানি শেষ হয়।

শুনানি শেষে আদেশের জন্য সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট। এদিন সকালে খাস কামরায় সিনেমাটি দেখে আদালত আদেশ দেবেন বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন: বলিউড সিনেমা ‘ফারাজ’ মুক্তি বন্ধের দাবি অবিন্তার মায়ের

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করীম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

৩ ফেব্রুয়ারি ভারতে মুক্তি পায় ‘ফারাজ’। এটি ভারতে প্রযোজিত একটি সিনেমা।

jagonews24

আইনজীবী আহসানুল করীম বলেন, ‘ফারাজ’ সিনেমা বাংলাদেশের কোথাও যেন প্রদর্শন না হয় সেজন্য রিট করা হয়। এই সিনেমায় যে চিত্রায়িত হয়েছে, সেখানে দেখানো হয়েছে দুজন জঙ্গি কথা বলছেন, তার মধ্যে একজনের সঙ্গে ‘অবিন্তা’র সম্পর্ক ছিল বা আছে। তার পোশাক এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যা আমাদের সভ্য সমাজে শিক্ষিত পরিবারে কখনো এসব পোশাক পরিধান করে না।

আরও পড়ুন: ‘ফারাজ’ বাংলাদেশি সাংবাদিক লাবুর বই থেকে নির্মিত হয়েছে

তিনি বলেন, এই সিনেমায় মেয়েটাকে চারিত্রিকভাবে অবনতি করা হয়েছে। এমনকি পুলিশকে ব্যর্থ দেখানো হয়েছে। যা একটি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এসব কারণে বাংলাদেশের কোনো প্ল্যাটফর্মে আসা উচিত না এটা। এই কারণে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।

রিটটি করেন হলি আর্টিসানের ঘটনায় নিহত অবিন্তার মা রুবা আহমেদ। রুবা আহমেদের পক্ষে আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান এই আবেদন করেন।

আবেদনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি (বিটিআরসি) ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজি) বিবাদী করা হয়।

আরও পড়ুন: পুলিশের দৃষ্টিতে যেসব কারণে হলি আর্টিসান হামলা

রিটে বাংলাদেশে সিনেমা হলে প্রদর্শন এবং নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমসসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘ফারাজ’ প্রচার স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, এবং প্রদর্শন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত অবিন্তা কবিরের মা রুবা আহমেদ বলেন, আমি ছয় মাস মুভিটাকে আটকে রেখেছি। তা না হলে ছয় মাস আগেই মুভিটা মুক্তি পেয়ে যেত। আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। প্লিজ, আপনারা (সাংবাদিক) মুভিটিকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে রিলিজ হতে দেবেন না। আমি জানি এই মুভিটা রিলিজ পেয়ে যাবে। তারপরও আপনাদের কাছে অনুরোধ এই মুভিটা দেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যেন রিলিজ না হয়।

আরও পড়ুন: হলি আর্টিসান হামলার ৬ বছর: গুলিতে কেঁপে ওঠে ঢাকা

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে আমি সিনেমাটি সম্পর্কে জানতে পারি। ২০২১ সালের ৫ আগস্ট সিনেমার পোস্টার আমার হাতে আসে। নির্মাতাদের কাছে আমি আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিলাম। কোর্টের আদেশ থাকার পরও তারা আমাকে এখন পর্যন্ত মুভির কোনো স্ক্রিপ্ট বা সিনেমাটি দেখায়নি।

২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ফিল্ম ফেস্টিভালে ফারাজ সিনেমাটির স্ক্রিনিং করানো হয়। সেখানে রুবা আহমেদের এক প্রতিনিধি পুরো সিনেমার ডিটিইলিং দেখেছেন। তিনি দেশে ফিরে রুবার আইনজীবীকে বলেছেন, সিনেমায় অবিন্তার চরিত্রের নাম আয়শা।

রুবা বলেন, সিনেমার নাম ফারাজ হওয়ায় একজনকে হিরো সাজানো হয়েছে। আর বাকিদের বোঝানো হয়েছে তারা ‘ভিলেন’। তাদের বাঁচাতে গিয়ে ফারাজ নিহত হয়েছেন। আমার মেয়ে কারও জন্য জীবন দেয়নি। সেখানে কী ঘটে ছিল আমরা কেউ জানি না। আর একজন ভারতীয় হয়ে বাঙালিদের তারা কেন যাচাই করবে? তারা এই সিনেমাটি বানানোর সময় কোনো পরিবারের সঙ্গে কথা বলেনি।

আরও পড়ুন: হলি আর্টিসান হামলার ঘটনাক্রম

অবিন্তার মা আরও বলেন, আমি মা হয়ে কীভাবে চাইবো, আমার মেয়ের মৃত্যুকে বড় পর্দায় দেখে অন্য কেউ বিনোদন নেবে? মেয়ের জীবন কীভাবে চলে গেছে, একজন মা হয়ে কী কারও পক্ষে তা দেখা সম্ভব? এতে আমার মেয়ের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হচ্ছে, সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে।

রুবা আহমেদ আরও বলেন, আমার মেয়ে সাধারণ জনতা। আমার মেয়ে কোনো পণ্য নয়। ও কোনো কিচ্ছু না। ও অবিন্তা কবির, আমার মেয়ে। আপনারা কেউ ওকে জানতেন না। আপনারা কী আসলেই অবিন্তা কবিরকে চিনতেন? যদি ও ২০১৬ সালে মারা না যেত? চিনতেন না। আপনার ওর (অবিন্তা) নামটা জেনেছেন কারণ, শি পাসড ওয়ে দ্যাট নাইট।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি ইউনিভার্সিটির অক্সফোর্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন অবিন্তা কবির। ২০১৬ সালের জুন মাসে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন জঙ্গি হামলায় ফারাজের সঙ্গে তিনি নিহত হন। তার স্মৃতি ধরে রাখতে ২০১৭ সালের ৪ মার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন’।

এফএইচ/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।