মাল্টিডাইমেনশনাল কিলার ছিলেন জিয়াউল আহসান: চিফ প্রসিকিউটর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারের মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় গুম এবং হত্যায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের মাল্টিডাইমেনশনাল (মহুমাত্রিক) ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, জিয়াউলের অপরাধ কল্পনার চেয়েও বেশি। তার সব অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে যা পাওয়া গেছে শাস্তির জন্য এটাই যথেষ্ট।

রোববার (৪ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আর্জি জানিয়ে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এমন কথা বলেন।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করা হয়েছে।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শাইখ মাহদীন। আর আসামি জিয়াউল আহসানের পক্ষে শুনানি করেন তার ছোট বোন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজনিন নাহার। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ।

গুম ও হত্যার ঘটনায় জিয়াউল আহসানের মহাকাব্যিক ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জিয়াউলের অপরাধ কল্পনার চেয়েও বেশি। তার সব অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে যা পাওয়া গেছে, শাস্তির জন্য এটাই যথেষ্ট। এ জন্য অন্য মামলায় না জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে।

আদালতে চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল অভিযানের নামে সাজানো ক্রসয়ায়ারে অন্তত ১৩–১৪ জনকে হত্যা করেছে জিয়াউল আহসান। আর এসব সাজানো নাটকের তথ্য প্রচারে ব্যবহার করা হতো নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিককে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, গুম করে অন্তত ১০০ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগে বলা হয়, গাজীপুরে এক রাতেই ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করে র‍্যাব, এর মধ্যে দুজনকেই গুলি করেন জিয়া। এছাড়া গুম, খুনের পর পেট কেটে বস্তা ও ইট দিয়ে বেঁধে নদীতে ফেলতো। এর পর মরদেহ ভেসে ওঠে। মরদেহ ভেসে উঠতে পারে এই আশঙ্কা থেকে হত্যা ও লাশ গুমের স্থান পরিবর্তন করা হয়।

তিনি জানান, স্থান পরিবর্তন করে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অপহরণ করে নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটার চরদোয়ানি সাগরের মোহনায় এলাকায় নিয়ে যেতেন জিয়াউল আহসান। সেখানে গভীর রাতে বলেশ্বর নদীতে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। এভাবে ৫০ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মামলায় আজ (৪ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি হয়।

গত ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। এ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান। তাকে ওইদিন কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনায় তিনটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশ দিয়ে ২১ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে হাজিরের নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় ওইদিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন।

এফএইচ/এমআইএইচএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।