সহকারী আবহাওয়াবিদ পদে ৪ জনকে নিয়োগের নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ০২ মার্চ ২০২৩

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শূন্য পদে ৩৫তম বিসিএস নন-ক্যাডারভুক্ত (বিসিএসে উত্তীর্ণ নন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত) চারজনকে সহকারী আবহাওয়াবিদ পদে নিয়োগ দিতে নির্দেশনা দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদেশ হাতে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই নির্দেশনা প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট মো. কায়সারুজ্জামান কায়েস।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিটে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে আজ রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. কায়সারুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন মো. আব্দুর রহিম, সাফফাত হোমায়রা ও শেখ কানিজ ফাতেমা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ রুমি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রুমী বলেন, আদেশের বিষয়টি আমরা আবহাওয়া অধিদপ্তরকে জানাবো। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবেন আপিল করবেন কি না।

৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার দুই বছরেও নিয়োগ না দেওয়ায় ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই আরিফুল হাসান, জিহাদ আলী, উজ্জ্বল হোসেন ও তানজিমা আফরিন রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৮ আগস্ট রুল জারি করেন আদালত। রুলে রিটকারী চারজনকে কেন নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পাঁচজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

ওই রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত। রিটকারী চারজনসহ সুপারিশপ্রাপ্ত ১১ জনকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।

রিটকারীদের আইনজীবী মো. কায়সারুজ্জামান জানান, ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে নন-ক্যাডারে সহকারী আবহাওয়াবিদ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন রিটকারীরা। এরপর তাদের সবার মেডিকেল চেকআপ, পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ অন্যান্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অথচ পরে একটি নিয়োগ বিধির দোহাই দিয়ে তাদের নিয়োগ আটকে যায়। যেখানে তারা একই সময়ে একই পোস্টে অন্য তিনজনকে নিয়োগ দেয়। অথচ সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এটি আমরা আদালতে বলেছি। আদালত শুনানি নিয়ে আজ এ রায় দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রুমী বলেন, রুল শুনানি করে আদালত আজ রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। রিটকারীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যে আইন বাতিলের কারণে তাদের নিয়োগ আটকে গেছে, সেই আইনের অধীনেই এক সময়ে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই গ্রাউন্ডে আদালত তাদেরকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলা থেকে জানা যায়, ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ২০১৭ সালে ৩৯৮ জনকে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে নিয়োগের জন্য এই প্রার্থীদের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। এর মধ্যে ১১ প্রার্থীকে আবহাওয়া অধিদপ্তরে সহকারী আবহাওয়াবিদ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

৩৫তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়া এই ১১ প্রার্থীর মধ্যে কয়েকজন ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে নন-ক্যাডারের জন্য তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু পিএসসির নিয়ম অনুযায়ী একবার প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে পরবর্তীকালে আর আবেদন করা যায় না। তাই পিএসসি তাদের আর নতুন করে কোনো পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তরে পাঁচ বছরেও নিয়োগের সুরাহা না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তাদের।

রিটকারী মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যান্য পদের প্রার্থীদের সঙ্গে ২০১৭ সালেই আমাদের ১১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছিল। পুলিশ ভেরিফিকেশন ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ছয় বছরেও নিয়োগ পাইনি। যে কারণে আমরা চারজন রিট দায়ের করি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি সামরিক সরকারের আমলে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই নিয়োগবিধি বাতিল হয়। এরপর আর নতুন কোনো নীতিমালা তৈরি করা হয়নি।

এফএইচ/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।