বাবার সাক্ষ্যে মিতু হত্যার বিচার শুরু
সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। রোববার (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ৩য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে মামলার ৭ আসামির বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরু হলো।
এদিন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন তিন ঘণ্টারও বেশি সময় জবানবন্দি দেন। জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রশিদ।
তিনি বলেন, রোববার নির্ধারিত দিনে মিতু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। প্রথমদিন মিতুর বাবা জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তিনি জবানবন্দি শেষ করতে পারেননি। আদালত আগামী ২ মে পরবর্তী দিন রেখেছেন। ওইদিন তিনি বাকি জবানবন্দি দেবেন। এরপর তাকে জেরা করা হতে পারে।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় কারাগারে থাকা আসামি বাবুল আক্তার, আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান মিয়া ও মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিমকে আদালতে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামি এহতেশামুল হক ভোলাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা চার্জ (অভিযোগ) গঠনের দিন আদালতে একটি ডিসচার্জ পিটিশন দিয়েছিলাম। চার্জ গঠন হওয়ায় আমরা আদালতের আদেশ রিভিশন চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি। যেহেতু আমাদের আবেদন উচ্চ আদালতে পেন্ডিং আছে, সেহেতু মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখার জন্য আমরা আদালতে একটি পিটিশন দিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত আমাদের পিটিশন নামঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। আদালতে বাবুল আক্তারের শ্বশুর জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছে। সেই কারণ দেখিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ঈদের পরে শুরু করার জন্য সময় চান তারা। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষ ৪৫ মিনিট যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করে। শেষে আদালত সাক্ষ্য শুরুর আদেশ দিলে মোশাররফ হোসেন জবানবন্দি উপস্থাপন শুরু করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার অবস্থান করছিলেন ঢাকায়। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
পরে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে তারই সম্পৃক্ততা পায় পিবিআই। এরপর গত বছরের ১২ মে আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় আরেকটি মামলা করেন মিতুর বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন। ওইদিনই মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পিবিআই। সেই থেকে কারাগারে আছেন তিনি।
তবে আইনি জটিলতায় পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে আগের (বাবুল আক্তারের করা) মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। অভিযোগপত্রে মামলার বাদী বাবুল আক্তারসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়। গত ১০ অক্টোবর অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম আদালত। গত ১৩ মার্চ চট্টগ্রামের ৩য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন।
ইকবাল হোসেন/কেএসআর/জেআইএম