অনলাইনে খারাপ অভিজ্ঞতা হলে কীভাবে সন্তানের পাশে দাঁড়াবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

বর্তমান যুগে শিশুরা ছোট থেকেই ইন্টারনেট দুনিয়ার সংস্পর্শে বেড়ে উঠছে। আপনি সতর্ক থাকলেও সন্তানকে এই জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারবেন না। তবে ইন্টারনেট শিশুদের শেখা ও যোগাযোগের বড় মাধ্যম হলেও, অনলাইনে খারাপ অভিজ্ঞতার ঝুঁকিও আছে।

অপমানজনক মন্তব্য, ভয় দেখানো, বুলিং বা অস্বস্তিকর কনটেন্ট — এসবের যেকোনোটি সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এমন কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার সামনে পড়লে সন্তান আপনার কাছে কেমন আচরণ পাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে তার ব্যক্তিত্ব। তাহলে কীভাবে সামলাবেন এমন পরিস্থিতি?

১. আপনার প্রথম কাজ শোনা ও বিশ্বাস করা

সন্তান যদি অনলাইনে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলে, আগে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে দোষ দেবেন না বা ভয় দেখাবেন না। ‘তুমি কেন এটা করলে?’ এই প্রশ্নের বদলে বলুন, ‘তুমি আমাকে এটা জানিয়ে খুব ভালো করেছ।’ এতে সন্তান বুঝবে, সে একা নয়।

২. অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

অনলাইনে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা ছোট বিষয় মনে হলেও, সন্তানের কাছে সেটি বড় হতে পারে। তার ভয়, লজ্জা বা দুঃখকে হালকাভাবে নেবেন না। তাকে জানান - এই অনুভূতিগুলো স্বাভাবিক এবং সে চাইলে আপনার সঙ্গে সব কথা বলতে পারে।

অনলাইনে খারাপ অভিজ্ঞতা হলে কীভাবে সন্তানের পাশে দাঁড়াবেন

৩. নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

সন্তানকে আশ্বস্ত করুন যে আপনি তার পাশে আছেন এবং তাকে নিরাপদ রাখাই আপনার প্রথম দায়িত্ব। অনলাইনে যা ঘটেছে, তা তার দোষ নয় — এই কথাটা স্পষ্ট করে বলুন।

৪. প্রমাণ সংরক্ষণ করুন

যদি অনলাইনে অপমান, হুমকি বা বুলিং হয়ে থাকে, তাহলে সেই মেসেজ, ছবি বা মন্তব্যের স্ক্রিনশট রেখে দিন। পরে রিপোর্ট করার সময় এগুলো কাজে লাগবে।

অনলাইনে খারাপ অভিজ্ঞতা হলে কীভাবে সন্তানের পাশে দাঁড়াবেন

৫. ব্লক ও রিপোর্ট করতে শেখান

সন্তানকে দেখান — কীভাবে বিরক্তিকর অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে হয় বা কনটেন্ট রিপোর্ট করতে হয়। প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে জানাতে পারেন।

৬. আচরণে পরিবর্তন খেয়াল করুন

হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুম বা পড়াশোনায় সমস্যা, অনলাইন এড়িয়ে চলা — এসব লক্ষণ মানসিক চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। এমন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।

অনলাইনে খারাপ অভিজ্ঞতা হলে কীভাবে সন্তানের পাশে দাঁড়াবেন

কখন পেশাদার সাহায্য নেবেন

যদি খারাপ অভিজ্ঞতার প্রভাব দীর্ঘদিন থাকে বা সন্তানের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।

অনলাইনে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা সন্তানের জন্য খুব বাস্তব কষ্টের কারণ হতে পারে। দোষারোপ নয়, বরং শোনা, বোঝা আর পাশে থাকাই অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সূত্র: ইউনিসেফ প্যারেন্টিং

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।