শিশুর দিনের ঘুম কতটা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

অনেক বাবা–মা ভাবেন - আজ একটু ঘুম না হলেও কী এমন হবে? কিন্তু নিউরোসায়েন্স বলছে, চার বছরের নিচে শিশুর ক্ষেত্রে দুপুরের ঘুম বাদ পড়া মোটেও ছোট বিষয় নয়।

এতে শিশুর শরীর ও মস্তিষ্ক এমন এক স্ট্রেসের অবস্থায় চলে যায়, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ফাইট-অর-ফ্লাইট রেসপন্স। যেমনটি হয় মানুষ বিপদে পড়লে।

শরীর কেন হঠাৎ ‘বিপদ’ মনে করে?

ছোট শিশুরা দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে পারে না। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি জেগে থাকলে শিশুর শরীর সেটাকে বিপদের সংকেত হিসেবে নেয়। তখন শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলো শিশুকে জাগিয়ে রাখতে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে শিশুকে অস্থির, অতিরিক্ত চঞ্চল বা অকারণে হাসিখুশি করে তোলে, যাকে অনেক সময় বাবা-মা উদ্যম ফিরে পাওয়া মনে করেন।

সমস্যা হলো, এই সময় কর্টিসল বেড়ে যাওয়ায় মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) তৈরি হতে পারে না। ফলে শিশু যত ক্লান্তই হোক, ঘুমানো তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

শিশুর দিনের ঘুম কতটা জরুরি

আবেগ নিয়ন্ত্রণ কেন ভেঙে যায়?

চার বছরের নিচে শিশুর মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ঘুম না হলে এই অপরিণত অংশগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ঘুম মিস করে, তারা ছোট বিরক্তিতেও বেশি রেগে যায়। আনন্দের মুহূর্তেও কম ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়। নতুন কিছু শেখা বা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।

দুপুরের ঘুম আসলে শিশুর জন্য এক ধরনের মাঝপথের রিসেট বাটন। এই রিসেট না হলে দিনের শেষে জমে থাকা ক্লান্তি হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে আসে - কান্না, চিৎকার বা টানা টান্ট্রামের মাধ্যমে। একে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন ভলকানো ইফেক্ট।

বাবা-মা তাহলে কী করবেন?

শিশুকে ‘আর একটু জাগিয়ে রাখি’ না ভেবে নিয়মিত ঘুমের সময় ধরে রাখা অনেক বেশি উপকারী। কারণ, ঘুম মানে শুধু বিশ্রাম নয় - এটা শিশুর মস্তিষ্কের আবেগ, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা তৈরি হওয়ার সময়।

সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, জার্নাল অব স্লিপ রিসার্চ

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।