ইফতারের ভাজাপোড়া তেল পরিষ্কার করার ঘরোয়া পদ্ধতি
রমজান মানেই রান্নাঘরে বাড়তি ব্যস্ততা। ইফতারের টেবিলে চপ, বেগুনি, সমুচা বা নানা ভাজাপোড়া না থাকলে যেন আয়োজনই অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে এসব ভাজার পর কড়াই বা পাত্রে তেল অনেক সময় থেকেই যায়। একই তেল বারবার ব্যবহার করলে সেটি ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যায় এবং তাতে পোড়া কণা জমে থাকে। এমন তেলে রান্না করা বা খাবার ভাজা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
পোড়া তেলে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে, যা হজমে সমস্যা, অস্বস্তি এমনকি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
তাই তেল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি। অনেকেই মনে করেন, তেল পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার কাজ। কিন্তু কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই কাজটি কঠিন নয়।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তেল পরিষ্কার করবেন-
১. কর্নফ্লাওয়ারের ব্যবহার
কর্ণফ্লাওয়ার ব্যবহার করে পোড়া তেল পরিষ্কার করা খুবই কার্যকর। প্রথমে পাত্রে থাকা পোড়া তেল হালকা গরম করুন। এরপর ১-২ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ারের সঙ্গে ১/৪ কাপ পানি মিশিয়ে একটি পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি গরম তেলে ঢালুন এবং কম আঁচে ধীরে নাড়তে থাকুন। কর্নফ্লাওয়ার পোড়া অংশের সব ময়লা শোষণ করে জমাট বাঁধে। প্রায় ১০ মিনিট পর এই জমাট ময়লা ছেঁকে ফেলে দিন। এতে তেল থেকে ভাজাপোড়া দাগ ও অবশিষ্ট তেল সহজে আলাদা হয়ে যাবে।
২. জেলটিনের ব্যবহার
জেলটিনও পোড়া তেল পরিষ্কারের জন্য কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। এক টেবিল চামচ জেলটিন সামান্য ফুটন্ত পানিতে মিশিয়ে নিন । এরপর এই মিশ্রণ ঠান্ডা পোড়া তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা বা সারারাত রেখে দিন। জেলটিন ময়লাকে নিচে টেনে আনে, ফলে ওপরের পরিষ্কার তেল আলাদা করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিতে তেল পুনর্ব্যবহারযোগ্য হয়, তবে একাধিকবার ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো।
৩. ভাতের মাড়ের ব্যবহার
ভাজাপোড়া তেলের কণাগুলো ভাতের মাড় ব্যবহার করেও পরিষ্কার করা যায়। তেল ছেঁকে নিয়ে সামান্য ভাতের মাড় র পানিতে মিশিয়ে গরম করলে পোড়া অংশগুলো একসঙ্গে মিশে যায় এবং সহজে আলাদা করা যায়। এটি একটি সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়, যা বিশেষ কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না করেই তেলের গুণাবলী বজায় রাখে।
৪. আলু দিয়ে
আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি হলো আলু ব্যবহার করা। তেল গরম করে আলুর কয়েক টুকরো ছড়িয়ে দিন। আলু পোড়া গন্ধ শোষণ করে এবং তেলের মধ্যে থাকা ক্ষুদ্র পোড়া অংশের সাথে লেগে যায়। কিছুক্ষণ নেড়ে দিলে তেল অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। এই পদ্ধতিটি তেলের স্বাদ ও গুণাবলী রক্ষায় সাহায্য করে।
যদিও ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো কার্যকর। তবে মনে রাখতে হবে, তেল যতই পরিষ্কার করা হোক না কেন, বারবার ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাজার তেল সর্বোচ্চ এক থেকে দুইবার ব্যবহার করাই নিরাপদ। তেলের রং, গন্ধ ও ঘনত্ব পরিবর্তিত হলে সেটি আর ব্যবহার না করাই ভালো।
সূত্র: সিরিয়াস ইটিং, দ্য কিচেন, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:
রমজান মাস জুড়ে আদা-রসুন বাটা ভালো রাখার উপায়
রমজানে বাড়িতেই বানিয়ে নিন রেড চিলি ফ্লেক্স
এসএকেওয়াই/এমএস