মানসিক চাপ দুর্বল করে দিতে পারে আপনার শরীরের পেশি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণহীন মানসিক চাপ থাকলে তা ধীরে ধীরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির পথও তৈরি করতে পারে। ছবি/ সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ অনেকের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত সমস্যা - সব মিলিয়ে শরীর প্রায়ই একটি স্ট্রেস মোড-এ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী চাপ শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো কর্টিসল।

কর্টিসলকে সাধারণত শরীরের স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। স্বল্প সময়ের জন্য এটি শরীরকে বিপদের পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে সাহায্য করে। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকে, তাহলে তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও পেশির ক্ষতি করতে পারে।

কর্টিসল ও পেশি দুর্বলতার সম্পর্ক

গবেষণায় দেখা গেছে, কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে এটি শরীরের পেশি টিস্যু ভাঙতে শুরু করতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে পেশির শক্তি ও ভর কমে যেতে পারে।

মানসিক চাপ দুর্বল করে দিতে পারে আপনার শরীরের পেশি

বিশেষ করে শরীরের কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা পেশি - যেমন নিতম্ব বা কাঁধের পেশি - এই প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। ফলে দীর্ঘদিন মানসিক চাপ থাকলে অনেকের ক্ষেত্রে পেশি দুর্বলতা বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

কর্টিসল যেভাবে পেশির ওপর প্রভাব ফেলে

উচ্চ কর্টিসল শরীরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। প্রথমত, এটি পেশির প্রোটিন ভাঙার হার বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, নতুন পেশি তৈরির প্রক্রিয়া বা প্রোটিন সংশ্লেষণ কমিয়ে দেয়। এই দুই কারণে পেশির শক্তি কমে যেতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের অন্যান্য প্রভাব

শুধু পেশি দুর্বলতাই নয়, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীর ও মনের ওপর আরও নানা প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন -

>> ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে পেটের চারপাশে
>> ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রা
>> উদ্বেগ ও বিষণ্নতা
>> অতিরিক্ত ক্লান্তি
>> মনোযোগ কমে যাওয়া বা ‘ব্রেইন ফগ’
>> মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণহীন মানসিক চাপ থাকলে তা ধীরে ধীরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির পথও তৈরি করতে পারে।

মানসিক চাপ দুর্বল করে দিতে পারে আপনার শরীরের পেশি

কীভাবে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কমানোর জন্য জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে। যেমন নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখা।

মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।