সন্তান জন্মের পর বাবারাও ভুগতে পারেন অবসাদে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৫ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২৬
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

সন্তানের জন্মের পর মায়েরা অবসাদে ভুগতে পারেন,এই বিষয়টি এখন অনেকটাই পরিচিত। কিন্তু অনেকেই জানেন না, নতুন বাবারাও একই ধরনের মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। একটি শিশুর আগমনের সঙ্গে শুধু আনন্দই আসে না, জীবনের নানা পরিবর্তনও একসঙ্গে হাজির হয়। সেই পরিবর্তনের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক বাবাই অজান্তেই মানসিক অবসাদের মধ্যে ঢুকে পড়েন।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সন্তান জন্মের পর বাবাদের মধ্যেও অবসাদের প্রবণতা কম নয়। জামা নেটওয়ার্ক ওপেন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ১০ লক্ষেরও বেশি নতুন বাবাকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে দেখা গেছে, সন্তানের জন্মের এক বছর পর বাবাদের মানসিক চাপ সবচেয়ে বেশি হয়ে ওঠে। ওই সময় তাদের স্ট্রেস লেভেল প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাও একই তথ্য তুলে ধরেছে। তাদের মতে, প্রায় ১৩ থেকে ১৮ শতাংশ পুরুষ সন্তান জন্মের পর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভোগেন।

 jago news

পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাকে বলা হয় প্যাটার্নাল পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। সাধারণত সন্তানের জন্মের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি এক বছর পর্যন্তও স্থায়ী হয়। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি দশ জন বাবার মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। বিশেষ করে যদি নতুন মা নিজেও পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভোগেন, তাহলে বাবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও অনেকটাই বেড়ে যায়।

বাবাদের মধ্যে এই সমস্যা যে কারণে দেখা দেয়
সন্তান জন্মের পর বাবাদের জীবনে হঠাৎ করেই দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। পরিবার, অর্থনৈতিক চাপ, কাজের ভার সব মিলিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় ঘুমের অভাব এবং ব্যক্তিগত সময়ের ঘাটতি। অনেক সময় বাবারা অনুভব করেন, তারা সন্তানের সঙ্গে আগের মতো সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারছেন না। দাম্পত্য সম্পর্কেও পরিবর্তন আসে, যা মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আগে থেকে কেউ মানসিক অবসাদে ভুগে থাকলে এই সময়ে সেই প্রবণতা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

 jago

যেভাবে লক্ষণগুলো বুঝবেন
এই অবসাদের লক্ষণ অনেক সময় সরাসরি বোঝা যায় না। অনেক বাবা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না, ফলে সমস্যা চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যেমন- আচরণে খিটখিটে ভাব, অল্পতেই রেগে যাওয়া, অকারণে বিরক্তি বা হতাশা। অনেকেই পরিবার বা বন্ধুবান্ধব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। আগের পছন্দের কাজগুলোর প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কিছু ক্ষেত্রে আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

শুধু মানসিক নয়, শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যেমন মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা, শরীর ব্যথায়ও অনেক সময় অবসাদের লক্ষণ হিসেবেই প্রকাশ পায়। কিন্তু এই লক্ষণগুলোকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না বা অন্য কারণে হচ্ছে বলে এড়িয়ে যান।

jago

গুরুত্ব দেওয়া জরুরি
এই সমস্যাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ একজন বাবার মানসিক সুস্থতা পুরো পরিবারের উপর প্রভাব ফেলে। যদি তিনি অবসাদে ভোগেন, তবে তা সন্তানের যত্ন এবং দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি। পরিবারের সমর্থন, সঙ্গীর সহযোগিতা এবং খোলামেলা আলোচনা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিজের জন্য কিছু সময় বের করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের জন্ম নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। তবে সেই আনন্দের পাশাপাশি যে মানসিক চাপও থাকতে পারে, সেটি স্বীকার করা জরুরি। শুধু মায়ের নয়, বাবার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিলে পরিবার হবে আরও সুস্থ ও সুখী।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ইউনিসফ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।