বারবার চা গরম করে পান করলে শরীরে যেসব ক্ষতি হতে পারে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬
ছবি: এআই

কাজের ব্যস্ততায় অনেকেই দিনে একাধিকবার চা তৈরি করেন। কিন্তু সবসময়ই তা সঙ্গে সঙ্গে পান করা হয় না। কখনো কাজের চাপে, কখনো অসাবধানতায় চা ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন অনেকেই সেই চা আবার গরম করে পান করেন। বিষয়টি খুব সাধারণ মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এই অভ্যাস শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়।

চিকিৎসকদের মতে, একবার তৈরি করা চা বারবার গরম করলে এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। চায়ের মধ্যে থাকা উপকারী উপাদান যেমন ক্যাফিন ও ট্যানিন তাপের প্রভাবে ভেঙে যেতে শুরু করে। ফলে চায়ের স্বাদ যেমন তিতা হয়ে যায়, তেমনি এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি হজমের সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

jago

ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ে
চায়ের পাতায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক থাকতে পারে। যখন চা দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়, তখন এই অণুজীবগুলো দ্রুত বংশবিস্তার শুরু করে। পরে সেই চা বারবার গরম করলে বাহ্যিকভাবে তা নিরাপদ মনে হলেও, ভেতরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয় না। ফলে এই ধরনের চা পান করলে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমি বা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

দুধ চায়ের ক্ষেত্রে ক্ষতি বেশি
বিশেষ করে দুধ চায়ের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। দুধে থাকা প্রোটিন কেসিন এবং চায়ে থাকা ক্যাথেচিন একসঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে চায়ের পুষ্টিগুণ নষ্ট করে দেয়। বারবার গরম করার ফলে এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়, যা হজমশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি চিনি মেশানো দুধ চা দীর্ঘ সময় রেখে দিলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি আরও দ্রুত ঘটে, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

jago

অনেকেই মনে করেন, চা আবার ভালোভাবে গরম করে নিলেই তা নিরাপদ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় সত্য নয়। কিছু ব্যাকটেরিয়া উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে বা এমন বিষাক্ত উপাদান তৈরি করতে পারে, যা গরম করলেও নষ্ট হয় না। তাই শুধু গরম করলেই চা সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে যায়-এমন ধারণা ভুল।

তাই চা যতটা সম্ভব তাজা অবস্থায় পান করাই সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে চা তৈরি করলে অপচয়ও কম হবে এবং বারবার গরম করার প্রয়োজনও পড়বে না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা বা একাধিকবার গরম করা চা এড়িয়ে চলাই উচিত। এতে যেমন চায়ের স্বাদ ও গুণ বজায় থাকবে, তেমনি শরীরও থাকবে সুস্থ। দৈনন্দিন জীবনের এই ছোট সচেতনতাই আপনাকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

সূত্র:টাইমস অব ইন্ডিয়া, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।