বড়দের হাম হলে কী করবেন, জানুন
হামকে অনেকেই শুধু শিশুদের রোগ বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো বড়রাও হাম রোগে আক্রান্ত হতে পারেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের জটিলতাও হতে পারে আরও গুরুতর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভিন্নভাবে কাজ করে, ফলে হাম হলে বড়দের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামীমা ইয়াসমীন। তার মতে, ‘হাম শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যারা টিকা নেননি বা আগে কখনও আক্রান্ত হননি, তারা যেকোনো বয়সেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।’
বড়দের হাম কেন হয়?
অনেক বড় মানুষ ছোটবেলায় হাম টিকা নেননি বা তাদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। আবার কিছু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সুরক্ষা কমে যেতে পারে। ফলে ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে বড়রাও সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন।
বিশেষ করে যারা-
- কখনও হাম টিকা নেননি
- আগে হাম হয়নি
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
- ভিড় বা সংক্রমিত পরিবেশে থাকেন
বড়দের হাম হলে কী লক্ষণ দেখা যায়?
বড়দের ক্ষেত্রেও হামের লক্ষণ প্রায় একই থাকে, তবে অনেক সময় তা বেশি তীব্র হতে পারে-
- অতিরিক্ত জ্বর
- তীব্র মাথাব্যথা
- চোখ লাল হওয়া ও আলো সহ্য করতে না পারা
- কাশি ও গলা ব্যথা
- শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
- অনেক ক্ষেত্রে ক্লান্তি ও দুর্বলতাও বেশি থাকে
বড়দের ক্ষেত্রে জটিলতা কতটা ভয়াবহ?
ডা. শামীমা ইয়াসমীন জানান, বড়দের হাম হলে জটিলতার ঝুঁকি কম নয়, বরং কখনও কখনও তা বেশি মারাত্মক হতে পারে। যেমন-
- নিউমোনিয়া
- লিভারের সমস্যা
- তীব্র ডিহাইড্রেশন
- এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে সংক্রমণ)
- বিশেষ করে গর্ভবতী নারী বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ
আরও পড়ুন:
- হামের প্রকোপ বাড়ছে, সতর্ক করলেন ডা. শামীমা ইয়াসমীন
- নবজাতকের হাম আতঙ্ক, যা করবেন অভিভাবক
- হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি
বড়দের হাম হলে কী করবেন?
- দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- বিশ্রাম ও আইসোলেশন নিশ্চিত করুন। হাম খুব সংক্রামক, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা জরুরি। এতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়।
- পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ। শরীরের শক্তি বজায় রাখতে পানি, স্যুপ, ফল ও সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর ওষুধ এবং অন্যান্য উপসর্গের চিকিৎসা নিতে হবে।
- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করলে রোগের তীব্রতা কিছুটা কমানো সম্ভব।
প্রতিরোধে কী করবেন?
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। যারা নিশ্চিত নন যে তারা টিকা নিয়েছেন কি না, তারা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজন হলে টিকা নিতে পারেন।
অবহেলা নয়, সচেতনতাই জরুরি
হামকে শুধু শিশুদের রোগ মনে করে অবহেলা করলে বিপদ হতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রেও এটি গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
সবশেষে ডা. শামীমা ইয়াসমীন বলেন, ‘সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায়।’ নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষায় তাই এখনই সতর্ক হোন, কারণ সামান্য অবহেলাই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
জেএস/