কেন কেনার দামে নয়, কম দামে বিক্রি হয় সোনা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

সোনা মানেই নিরাপদ বিনিয়োগ এই ধারণা আমাদের সমাজে বহু পুরোনো। বিয়ে, উৎসব কিংবা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই সোনার ওপর মানুষের আস্থা অটুট। কিন্তু বাস্তবতায় গিয়ে অনেকেই অবাক হন, যখন দেখেন যে সোনা একসময় চড়া দামে কেনা হয়েছিল, সেটি বিক্রি করতে গেলে দাম নেমে যায় বেশ খানিকটা। প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি সোনা সত্যিই লাভের বিনিয়োগ নয়? নাকি এর পেছনে আছে কিছু বাস্তব ও যুক্তিসংগত কারণ?

অলংকার আর কাঁচা সোনার পার্থক্যঅলংকার আর কাঁচা সোনার পার্থক্য

প্রথমেই বুঝতে হবে আপনি সাধারণত বাজার থেকে যে সোনা কেনেন, তা কাঁচা সোনা নয়; বরং অলংকার। এই অলংকার বানাতে সোনার সঙ্গে যুক্ত হয় নকশা, শ্রম, কারুকাজ ও মজুরি। কেনার সময় এসব খরচ সোনার দামের সঙ্গে যোগ হয়ে যায়। কিন্তু বিক্রির সময় ব্যবসায়ী অলংকারের নকশা বা মজুরির মূল্য দেন না। তখন তিনি দেখেন কেবল সোনার বিশুদ্ধ ওজন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে যায়।

মজুরি ফেরত না পাওয়াই বড় কারণ

একটি সোনার চেইন বা আংটি বানাতে স্বর্ণকারের সময়, দক্ষতা ও শ্রম লাগে। সেই মজুরির টাকা আপনি কেনার সময় পরিশোধ করেন। কিন্তু বিক্রির সময় সেই মজুরি আর ফেরত পাওয়া যায় না। কারণ দোকানদার অলংকারটি গলিয়ে নতুন করে ব্যবহার করবেন। তাই পুরোনো নকশার জন্য অতিরিক্ত দাম দেওয়ার কোনো কারণ তার থাকে না।

অলংকার আর কাঁচা সোনার পার্থক্যক্যারেটের হিসাবেও কমে মূল্য

সব সোনা সমান নয়। ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট বা ১৮ ক্যারেট ক্যারেট যত কম, সোনার সঙ্গে অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ তত বেশি। কেনার সময় অনেকেই ক্যারেটের বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও বিক্রির সময় সেটিই বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। ক্যারেট কম হলে প্রতি ভরিতে সোনার প্রকৃত মূল্য কমে যায়, ফলে মোট দামও কম পাওয়া যায়।

বাজারদর আর দোকানের ক্রয়দরের ফারাক

প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী সোনার একটি নির্ধারিত দর থাকে। কিন্তু দোকানগুলো সাধারণত সেই দরেই সোনা কিনে না। তারা কিছুটা কম দামে কিনে নিজেদের লাভ ও ঝুঁকি সামঞ্জস্য করে। ভবিষ্যতে দাম কমে গেলে যাতে ক্ষতি না হয়, সে কারণেও তারা কিনবার সময় দাম কম রাখে।

আরও পড়ুন: 

পুরোনো সোনায় কাটছাঁট অনিবার্য

ব্যবহৃত অলংকারে অনেক সময় ঘষা, ক্ষয় বা ওজন কমে যাওয়ার বিষয় থাকে। কিছু ক্ষেত্রে পাথর বসানো থাকলে সেটির ওজন বাদ দেওয়া হয়। এসব কারণেও বিক্রির সময় সোনার মোট ওজন কম ধরা হয়, যার প্রভাব পড়ে দামে।

ভ্যাট ও করের বিষয়টি একমুখী

কেনার সময় অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট বা কর যুক্ত হয় দামের সঙ্গে। কিন্তু বিক্রির সময় এই ভ্যাট বা করের কোনো অংশ ফেরত পাওয়া যায় না। ফলে কেনা আর বিক্রির দামের ব্যবধান আরও বাড়ে।

আবেগমূল্য আর বাজারমূল্য এক নয়

বিয়ের গয়না বা পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া সোনার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে থাকে। কিন্তু বাজারে আবেগের কোনো দাম নেই। সেখানে হিসাব হয় কেবল ওজন, ক্যারেট ও দিনের দর অনুযায়ী। ফলে প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক তৈরি হয়।

তাহলে কি সোনা বিনিয়োগ হিসেবে খারাপ?

একেবারেই নয়। সোনা দীর্ঘমেয়াদে মূল্য ধরে রাখে এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় কার্যকর। তবে সমস্যা হয় তখনই, যখন অলংকারকে বিনিয়োগ ভেবে কেনা হয়। বিনিয়োগের জন্য অলংকার নয়, বরং বার, কয়েন বা ডিজিটাল সোনার মতো বিকল্প তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হতে পারে।

বিয়ের জন্য সোনার গহনা কিনছেন? যা জানা জরুরি

সোনা বিক্রির আগে যা জানা জরুরি

সোনা বিক্রির আগে কয়েকটি দোকানে দর জেনে নেওয়া, ক্যারেট ও ওজন যাচাই করা এবং বাজারদর সম্পর্কে ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব।

সোনা বিক্রি করলে কম দাম পাওয়া কোনো প্রতারণা নয়; বরং এটি সোনার বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। কেনার সময় যে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়, বিক্রির সময় তা বাদ পড়েই যায়। তাই সোনা কেনার আগে উদ্দেশ্য স্পষ্ট রাখা জরুরি অলংকার নাকি বিনিয়োগ। বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিলেই সোনার ঝিলিক আপনাকে হতাশ করবে না।

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।