আমিনুল ইসলামের কবিতায় জীবন ও যাপনের ছায়া

মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান মুহাম্মদ ফরিদ হাসান , কবি ও কথাসাহিত্যিক
প্রকাশিত: ০৭:২১ এএম, ০২ আগস্ট ২০১৭

যেকোন মানুষকেই সমাজে বসবাস করতে হয়। সমাজের বিভিন্ন প্রথা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আচার ও অভিঘাত মানুষকে তাই স্বাভাবিকভাবেই স্পর্শ করে। একজন কবি কিংবা শিল্পীও সমাজবিচ্যুত কেউ নন। সমাজের নানা অনুষঙ্গ কবিকে স্পর্শ করে, আবার কখনো কবির স্পর্শে সমাজচিন্তনে বৈচিত্র্য আসে। কোনো কোনো ঘটনায় কবি ক্ষুব্ধ হন, কখনো বিস্মিত, অভিভূত হন—এমন প্রতিক্রিয়ার ছায়া তাঁর কবিতাতেও পড়ে। কখনো এমন প্রতিক্রিয়া কবিতায় সচেতনভাবেই কবি তুলে ধরেন, আবার কখনো অবচেতনভাবে কবিতায় স্থান পায় সামাজিক অভিঘাত। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ ধর্মীয় চিন্তায় রচিত হলেও তৎকালীন সমাজচিত্র চর্যাপদে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

আমিনুল ইসলাম নব্বই দশকের কবি। তার কবিতাও সমাজবাস্তবতার নানা অভিঘাত ও প্রতিফলনকে অস্বীকার করে যায়নি। শুধু তাই নয়- তার কবিতা অধিকাংশই দেশের সমাজব্যবস্থাকে পেরিয়ে বৈশ্বিক দিকে মনোযোগ রেখেছে। বিশ্বের নানা ঘটনাকে আমিনুল ইসলাম কবিতার ক্যানভাসে উপস্থাপন করেছেন। যদিও এই উপস্থাপনে প্রতিবাদ ও ব্যঙ্গের সংখ্যাই বেশি, তবুও সমাজবাস্তবতার নিরিখে এমন অনুভূতি কম গুরুত্বের দাবি রাখে না।

আমিনুল ইসলাম মানুষকে বিচিত্রভাবে দেখেছেন। তাঁর দেখার সাথে খোন্দকার আশরাফ হোসেনের দর্শনের সঙ্গতি রয়েছে। সমকালীন যাতনায় খোন্দকার আশরাফ হোসেন যেখানে ‘আয় (না) দেখে অন্ধ মানুষ’, ‘ট্রেড ফেয়ার’ লিখেছেন; সেখানে আমিনুল ইসলাম লিখেছেন ‘বোমাবাঁধা মানুষ’। নাগরিক জীবনে ফাঁসআঁটা মানুষ কেবল ছুটছে। সবকিছু রেখে কেবল ছুটছে। কিন্তু এ অন্ধের মতো ছোটা অর্থহীন। তবু সময়ের কাঁটায় মানুষ নিজেকে রাখে। ‘আর হাতের কাছে/ যা পাচ্ছে/ পুরে নিচ্ছে ব্যাগে/ কোনোটা কিনে/ কোনোটা চুরি করে।’ এই যে চুরি করে নেয়া—যা পাওয়া, তা-ই নেয়া; বর্তমান সময় এমন দৃশ্যপটই আমাদের চোখের সামনে দাঁড় করায়। তখন নিজেকেও ‘বোমাবাঁধা মানুষ’ বলে মনে হয়। আমিনুল ইসলামের কবিতা কৃত্রিমতাকে কোনোভাবে সমর্থন করেনি। আজ মানুষ কেবল প্রচার ও প্রসারের খাতিরে উন্নয়ন-প্রগতির কথা বলে। মূলত এর ভেতরের অসারতাও কারো অবোধ্য নয়। কারণ রক্ষক ভক্ষক সাজার উদাহরণ সমাজে কম নয়। এমন চিত্রও বারবার এসেছে তার কবিতায়। তাই ‘কল্পচিত্র’ কবিতায় দেখি ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উচ্চকণ্ঠ/ আঁরি ও করাত;/ তাদের চারপাশে নেকড়ে প্রটেকশন।’

প্রযুক্তির উৎকর্ষ জীবনকে গতি দিয়েছে। পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও কম নেই। প্রযুক্তি মুছে দিচ্ছে উদাম আকাশ, কারণ চোখ পড়ে থাকে ল্যাপটপের স্ক্রিনে। পাখির ডাক, নদীর উচ্ছ্বলতাও কান স্পর্শ করে না, কারণ কান পড়ে থাকে মোবাইলে, হেডফোনে। প্রেমিকার চিঠিও তাই দুষ্প্রাপ্য। প্রযুক্তির উৎকর্ষে কবি মনে করেন, ‘ফ্যাক্সে হৃদয় ঢালতে গেলে ঘাঁটবে অপারেটর’। যেখানে কবির এমন আশঙ্কা, সেই কবিও শেষপর্যন্ত সমাজবাস্তবতা এড়াতে পারেন না। তাই তাঁর কবিতায় অসংখ্য প্রযুক্তিজাত শব্দ এসেছে আবেগী ভাষায়, আবেগকে প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তির উপকরণে। তাঁর ‘আমি হতে পারিনি আকাশ’র একাংশ :
‘মাউসটা হাতে নিয়ে
কত চাপ দিই—
ডিলিট বাটন ফেল
স্ক্যান এগিয়ে চলা ভাইরাসের মতো
রয়ে যায়—ক্ষুধা ও পিপাসার
কতিপয় ফাইল ফোল্ডার।’

পূর্বেই উল্লেখ করেছি সমকালীন যাতনা, অবিচার, অনিয়মের বিরুদ্ধে সমাজসচেতন হিসেবে কবি কলম ধরে থাকেন। কখনো তার প্রতিবাদ ব্যঙ্গের মাধ্যমে হয়, কখনো উচ্চকণ্ঠ, আবার এমনও হয় কবি কেবল অনিয়মগুলো তুলে ধরেন। তবে এটা মনে রাখা দরকার, কবিতায় সমাজকে তুলে ধরা গল্পের চেয়ে কষ্টসাধ্য বিষয়। কবিকে সেই কষ্ট অতিক্রম করতে হয়। ঘুষ, তদবির, দুর্নীতি আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার অফিসকর্তার কথাকে সবসময় সঠিক মনে করার রীতিও বহুল প্রচলিত রয়েছে। রীতিটা এমন : ‘উঠুন! জ্বী স্যার/ বসুন! জ্বী স্যার/ হাঁটুন! জ্বী স্যার/ দৌড়ান! জ্বী স্যার।/ ফলে কোনোদিনও শেখা হয় না দাঁড়াতে নিজপায়ে;/ ফলে নিজ মেরুদণ্ডে সোজা হয়ে দাঁড়ায়নি সিস্টেম।’ আমিনুল ইসলাম এমন পঙক্তিতেই কবিতাটি শেষ করেন না। কারণ, এটি চূড়ান্ত কথন নয়। ‘প্রদীপের নিচে : একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট’ কবিতাটি শেষ হয় এভাবে :
‘দুর্বলের ঘাড়ে পা রেখে
দাঁড়িয়ে আছে তন্ত্র;
তার দুটি হাত—অয়লী এন্ড ইনভিজিবল
একটি হাত ছুঁয়ে আছে দেবতার পা,
অন্যটি দৈত্যের।’

যার ফলে সহজেই দেশের অফিসগুলোর একটি সাধারণ অথচ ভয়াবহ চিত্র কবিতা পাঠের পর পাওয়া যায়। কিন্তু যারা এসব থেকে দূরে তারা কি ভালো আছেন? মিথ্যের জঞ্জাল ও তোষামোদের বিপরীতে পথ হাঁটা মানুষের কি ভোগান্তি কম? ভোগান্তি ও বেদনা তাদের নিঃসন্দেহে রয়েছে, কেননা সরল পথে চলা খুবই দুঃসাধ্য ও দুঃসাহসিক কাজ। আমাদের সমাজ ও যাপন-পদ্ধতিই সরলকে কঠিন করেছে। যার কারণে সামর্থ্যবান ও সরল পথে চলা পথিক বিপাকগ্রস্ত আছে : ‘মেরুদণ্ড নিয়ে বিপাকে আছি।/ সোজা হয়ে দাঁড়ালে/ জ্বিনের লাথি ছুটে আসে;/ বাঁকা হয়ে চলারও অভ্যেস নেই।/ বন্ধুরা পরামর্শ দেয় :/ ওই মেরুদণ্ড-ফেরুদণ্ডের/ বোঝা বয়ে লাভ নেই/ বেটার ফলো দি স্নেইক!’ এই সমাজবাস্তবতা উপস্থাপনের পাশাপাশি আমিনুল ইসলাম ‘মেরুদণ্ড রোগ’ কবিতায় কটাক্ষও করেন। কবি বলেন, মেরুদণ্ডী না হয়ে বরং সাপ হওয়া ভালো। কারণ সাপ হলে গিলে খাওয়া যাবে, বিপদ হবে না। আবার বিপদ-আপদ দেখলে ঠিকই গর্ত জুটে যাবে। আর বড় কথা হলো এ সমাজে এখন কার মেরুদণ্ড আছে, কার নেই, কে ‘পথিক’, কে ‘পথের ঠিকাদার’ তা নিয়ে কেউ ভাবে না। এসব সত্ত্বেও কবি চান এসব হীন গণ্ডির মধ্য থেকে মানুষ বেরিয়ে আসুক। কুচক্রির দেয়াল ভেঙে পড়ুক। কবি মনে করেন, সমস্যা উত্তরণে চাই সম্মিলিত পরিশুদ্ধি।

আমিনুল ইসলাম স্বাধীনতার চেতনাধারী কবি। স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু, পতাকা, সবুজ স্বদেশের কথা তিনি বিভিন্ন কবিতায় জোর দিয়ে বলেছেন। দুঃখজনক হলেও সমকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অপপ্রচার কম হয়নি। সচেতন মানুষ এমন অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে। কবির ‘অস্ত্র’ কবিতায়ও ফুটেছে প্রতিবাদের বারুদ-ফুলকি। আমিনুল ইসলাম প্রচুর প্রেমের কবিতা লিখেছেন। হেলাল হাফিজ যেমন প্রেমের মধ্যে অদ্ভুতভাবে দ্রোহকে নিয়ে সমানতালে চলেছেন, তেমনি আমিনুল ইসলামকেও দেখি প্রেমের কবিতার অলি-গলিতে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন গোপন প্রতিবাদ। গোপন বললাম এ কারণে যে, খুব ভালোভাবে লক্ষ্য না করলে এ প্রতিবাদ চোখ পড়ে না। কোনো কোনো কবিতায় উপমার সারল্যেও বিশ্বচিন্তা ঢুকে পড়েছে ব্যাপৃত আকারে। ‘আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসবো, কেন?’ কবিতায় কবি বলেছেন, ‘অতএব এসো, আমরা দুজনে মিলে/ একটা পাহাড় এবং একটি নদী কিনে ফেলি;/ তখন সমুদ্রটা ফ্রি পেয়ে যাবো/ আর প্রথম দেখার দিন থেকেই সমুদ্রের জন্য/ তোমার আগ্রহ তো লোভের কাছাকাছি প্রায়।’ কবিতার প্রথম থেকে এক তৃতীয়াংশই সাধারণ প্রেমিক-প্রেমিকার অভিব্যক্তি। কিন্তু শেষাংশ পাঠে সেই অভিব্যক্তি আর আমাদের কাছে সাধারণ থাকে না :
‘দ্যাখো-আকাশের শপিং মলে যে বিক্রয় বিজ্ঞাপন
ঝুলে আছে—নক্ষত্রের হকারদের লেখা
‘দুটো কিনলে একটা ফ্রি,’
তা ষোলআনা বিশ্বাসযোগ্য;
কারণ ওটা গাজার আকাশে ঝুলে থাকা
ফিলিস্তিনীদের জন্য কোনো মার্কিনী প্রতিশ্রুতি নয়।’

এই যে কবিতায় বলা ‘ফিলিস্তিনীদের জন্য কোনো মার্কিনী প্রতিশ্রুতি নয়’—মাত্র শেষ দুটি লাইনের কারণে প্রেমের কবিতাটি বিশ্ব চেতনার স্রোতে মিশে গেলো। ফিলিস্তিন-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আমাদের অনেক কিছুই জানা আছে। সে ব্যাপারে নতুন কিছু বলছি না। কেবল এই প্রশ্ন তুলছি, কবিতার শেষ চরণ দুটি কি সূক্ষ্ম প্রতিবাদ? ব্যঙ্গ? বিদ্রুপ? নতুবা কবি কেন এমনভাবে বলতে পারেন, শপিং মলের বিক্রয় বিজ্ঞাপন ষোলআনা বিশ্বাসযোগ্য, কারণ এটা ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো মার্কিন প্রতিশ্রুতি নয়। অর্থাৎ মার্কিন প্রতিশ্রুতি অবিশ্বাসযোগ্য। ঠিক সমান্তরালে বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়া কবি তুলে ধরেন কবিতায়, তার কিছু উদাহরণ :
ক.
‘দ্যাখো—বুশের অধরে বাঘের লালা—নেতানিয়াহুর ঠোঁটে গোখরার বিষ
চুমু দিলেই ভেঙে পড়ে প্রাণ, কালো হয়ে যায় শান্তির শরীর!
(অধরচরিত)
খ.
কাল শাইলকের মন নিয়ে সুদ খোঁজেনি পুঁজিবাদ
কাল দুর্যোধনের মেধা নিয়ে ফন্দি আঁটেনি পেন্টাগন।
(ব্রেকিং নিউজ)
গ.
দ্যাখো—পৃথিবীতে কতকিছুই তো ঘটছে—সাজানো সন্ত্রাসের পথ ধরে
অন্যায় যুদ্ধ হচ্ছে; বিয়ে ছাড়াই প্রেগন্যান্ট হচ্ছে নারী
এমনকি ইসরাইলী স্কার্ট আর ফিলিস্তিনী ট্রাউজারের মধ্যে ভালোবাসার
বিয়ের হচ্ছে!...
(সুরভিত সময়ের সুর)

আমিনুল ইসলাম দৈনন্দিনতার কবি নন। তিনি দৈনন্দিনতাকে কবিতার ফ্রেমে ওইভাবে বাঁধেননি ঠিক-ই, তবে সমাজ-সমস্যা, বিপদগ্রস্ততার ব্যাপারে ছিলেন এর বিপরীত। প্রায় কবিতার ভেতরেই তিনি এমন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এ ধরনের অসংখ্য কবিতা রয়েছে, সবগুলোর কথা এ স্বল্পপরিসরে বলা অসম্ভব। কেবল একটি কবিতার কিছু লাইন পাঠ নিচ্ছি : ‘মাই লর্ড, ইওর অনার,/ ব্যর্থতা কি শুধুই আমার!/ পায়ের কাছে বঙ্গোপসাগরের অফুরন্ত রিজার্ভ/ কিন্তু আকাশ কি পারে/ শ্রাবণের বারি দিয়ে.../ মুক্ত করতে শীতলক্ষ্যাকে দূষণের গ্রাস থেকে?’ (ব্যর্থতার প্রেসনোট)

কেবল শীতলক্ষ্যা দূষণ নয়, বুড়িগঙ্গা থেকে প্রায় সবকটি নদীই দূষণের শিকার হচ্ছে। নদী স্বাভাবিক গতি প্রকৃতি হারাচ্ছে। মানুষের দূষণের কারণেই নদী বালুচরে পরিণত হচ্ছে। কবি এসব দেখে প্রতিদিন শরবিদ্ধ হচ্ছেন। তাই উপায়ন্তর না দেখে তিনি স্রষ্টার কাছে প্রশ্ন রাখেন শ্রাবণের বৃষ্টি দিয়ে কি শীতলক্ষ্যার দূষণ দূর করা যায় না? শুদ্ধ করা যায় না নদীটিকে? মানুষ যেহেতু দূষণ রোধ করতে পারছে না, তাই স্রষ্টাই ভরসা। দূষণ ও মানুষের সমন্বয় কবি ঠিকই জানেন, যার জন্য কবিতার শেষে বলেছেন, ‘প্রতিটি ব্যর্থতার পেছনে থাকে বহুমুখি বন্ধ্যা সহবাস।’

বর্তমান সমাজ অবক্ষয়, অন্যায়, দূষণ, প্রযুুক্তি অপব্যবহার, প্রতিহিংসায় আসক্ত হলেও এটি সমাজের পূর্ণচিত্র নয়। এসব কেবলি সমাজের ক্ষুদ্র একটি অংশের কার্যকলাপের বৃহৎ ফল। সেজন্য কি স্বপ্ন দেখবো না? এমন সমাজবাস্তবতায় মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারাবো? ভালোবাসবো না? গাইবো না প্রাণ ভরে? আমিনুল ইসলাম সমাজসচেতন বলেই তিনি সুন্দরের প্রত্যাশী। তাঁর বিশ্বাস সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হবেই। এমন আশাবাদ তাঁর অনেক কবিতাতেই উচ্চকিত হয়েছে। এমন একটি কবিতা ‘অবুঝ স্বপ্নের সমীকরণ’র পাঠ নিয়েই আলোচ্য নিবন্ধটির ইতি টানা যাক :
‘স্বপ্ন দেখি- নেকড়েরা রাখি বাঁধছে হরিণের গলায় আর
হরিণ-নেকড়ের নাচের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে বাঘ;
স্বপ্ন দেখি- সামরিক কারখানাগুলো উৎপাদন করছে
গোলাপগন্ধী পারফিউম আর কামানগুলো লিখছে কবিতা;
স্বপ্ন দেখি—পেন্টাগনে পড়ানো হচ্ছে প্রেমের বর্ণমালা
আর সৈন্যরা পরে আছে বেহুলা-লখিন্দর ইউনিফরম।
স্বপ্ন দেখি—বাংলাদেশের রাজনীতিকরা একতাবদ্ধ হয়েছেন
জাতীয় স্বার্থের এজেন্ডায় আর নদীগুলো ফিরে পাচ্ছে জল।
স্বপ্ন দেখি—দ্বিধার শহর থেকে ফিরে আসছো তুমি আর
তোমার জন্য কফির মগ নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি দুয়ারে।’

এসইউ/পিআর