আমাদের শৈশব

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

মিশকাত জাহান

হঠাৎ করেই ইটপাথরের শহরে বোবা অনুভূতিগুলোর কলরব শুরু হয়। মনের অজান্তেই শৈশবের স্মৃতিচারণ, বুকের ভেতর হুহু করে ওঠে কেমন একটা গভীর অনুভব। চোখের সামনেই একটা দৃশ্য দেখি ছবি ভেসে উঠে আমার শৈশবের। একটা চিরচেনা দৃশ্যপট আমার শৈশব-কৈশোর মিশে একাকার হয়ে আছে ছবিটায়। সৌভাগ্যক্রমে আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে। গ্রামের বাচ্চারা শৈশবে যতটা সারল্য/আনন্দ নিয়ে বড় হয়। আমার মনে হয় শহরের বাচ্চারা তেমন কিছুই পায় না। তাদের শৈশব কাটে বইয়ের বোঝা আর চার দেয়ালের গণ্ডির মধ্যে।

গ্রামে থাকার বদৌলতে, গ্রামের আর সব বাচ্চাদের মতো আমিও ছোটবেলায় লোডশেডিং হলে বাড়ির উঠানে কত এভাবে বসে পড়েছি। আব্দুল কাকা বসে মাছ ধরার জাল বুনতেন সাথে বুনে যেতেন আমাদের আবেশিত করার কত গল্প। কত রাজা, কত সওদাগরের কাহিনি আমাদের ছোট্ট চোখগুলোতে সে সব কাহিনি ভেসে উঠতো আমরা যেন স্পষ্ট দেখতে পেতাম সেসব কাহিনি।

আমার দাদি কত গল্প বলতেন নদীতে নাকি আগের যুগে হাত দিয়েই আমাদের মতো সাইজের মাছ পাওয়া যেত। বর্ষায় নদীর পানির স্রোতে ভেসে যেত মণিমুক্ত ভরা লোহার সিন্দুক। সেটা পাহারা দিত অজানা কোনো কিছু যাকে পছন্দ হতো তাকে স্বপ্নে দেখা দিত। সে নদীতে গেলে তার পিছনে পিছনে মণিমুক্তা ভরা সিন্দুক বাড়ি চলে আসত। তবে পছন্দের ব্যক্তি ছাড়া কেউ সেই সিন্দুক আসা দেখতে পেত না।

তবে বাচ্চারা নদীতে গেলে সিন্দুক তার ঢাকনা খুলে বাচ্চাদের ভিতরে ভরে নিত। এভাবে আমার দাদি প্রতিটা কল্প কাহিনিতে আমাদের গোপনে মেসেজ দিতেন, যাতে আমরা ভুলেও নদী বা পুকুরের আশপাশে না যাই। খুব ভয় পেয়ে গুটিয়ে যেতাম দাদির কোলে।

এখন বুঝি দাদির গল্পগুলো হয়তো তিনি বানিয়ে বলেছেন কিংবা তিনিও কারো মুখে শুনে থাকবেন। তবে এখন আমার সত্যিই সেই গল্পগুলো শোনার জন্য মন হাসফাস করে। বড় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় সেই গল্পগুলো আবার বাড়ির উঠানে বসে পড়তে ইচ্ছে করে, আব্দুল কাকাকেও খুব মনে পড়ে। এখন ইটপাথরের এই শহরে দাদি, আব্দুল কাকারা খুব বেমানান। এ যুগেও দাদিমা আছেন আব্দুল কাকারা আছেন তবে, ওরা একটু হাসির জন্য সারারাত জেগে গল্প করে না।

জোনাকির ফসফরাসেও বোধহয় আজকাল ভেজাল থাকে। পুকুরের টলটলে পানিতে সবুজ পিটি পিটি দাগগুলো এলোমেলো খেলে বেড়ায় না। ওদের ম্লান হয়ে যাওয়া তেজী আলো, পুকুর পাড়ের ঘাসবনে হারিয়ে যায়।

তবুও ভালো, গঙ্গাফড়িংটা আজকাল মাঝে মধ্যে আসে, হারিকেনের ওপর বসে। অসুবিধা নেই, ওই হারিকেন আর আলো দেয় না। জং ধরে ওর কেরোসিন জমিয়ে রাখা বুকে ছেদা হয়েছে বেশ কয়েকটা। ও বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েরা আজকাল সাদা আলোয় পড়াশোনা করে। মোবাইলে গল্প শোনে। ভয় নেই, ওরা আর ফিরবে না। কোনো দিনও না।

এইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]