ঈদযাত্রার আরেক নাম ‘মৃত্যুর মিছিল’
ঈদযাত্রার আনন্দের সঙ্গে লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি/জাগো নিউজ গ্রাফিক্স
বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেল থেকে দেশের মানুষের ঘরে ফেরার ‘থিম সং’–এ পরিণত হয়েছে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার...’। ঈদে অনেক স্বপ্ন, আশা নিয়েই বাড়ি রওয়ানা দেয় লাখো মানুষ। তবে নিয়তির পরিহাসে সব স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাড়ি পৌঁছাতে পারে না। আবার সবাই ফের ফিরতেও পারে না কর্মস্থলে। সড়কে একটি দুর্ঘটনা হয়ে ওঠে সারা জীবনের কান্না।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জাগো নিউজকে জানায়, গত চার বছরে আটটি ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৬৭ জন মানুষ। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৯৬ জন। গত এক দশকের পরিসংখ্যান বলছে, সড়ক ও মহাসড়ক দৃশ্যত ‘মরণফাঁদ’।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ সামনে এলেই দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রী চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় যানজট, দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট সংকট ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যা। ফলে যে যাত্রা হওয়ার কথা আনন্দের, তা অনেক সময় হয়ে ওঠে উদ্বেগ আর দুর্ভোগের। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নানা ধরনের প্রস্তুতির কথা বললেও প্রতি বছরই এসব সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
ঈদের সময় চালকরা যেমন তাড়াহুড়া করেন, বাস মালিকরাও বেশি আয়ের জন্য অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করতে চালকদের প্ররোচিত করেন। এসব থেকে যদি মালিকরা বিরত থাকেন ও চালকদের যদি তারা শান্তিতে গাড়ি চালাতে দেন তাহলে দুর্ঘটনার শঙ্কা কমে যায়।-বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী
মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি, হাইওয়ে পুলিশের টহল বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও বলা হয়। বাস্তবতা হলো, পরিকল্পনা যতই ভালো হোক, তার কার্যকর বাস্তবায়ন হয় না।
বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান বলছে, ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা সাধারণ সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়না, ক্লান্ত চালক, অতিরিক্ত যাত্রী এবং অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য চালকের উপস্থিতি এ ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অপরিকল্পিত মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা।
পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক
২০২২ সালে ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪৪৩ জন নিহত এবং ৮৬৮ জন আহত হন। ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত হন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।
২০২২ সালে ঈদুল আজহায় ৩৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৪০ জন নিহত এবং আহত হন ৭৯১ জন। ১১৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ১৩১ জন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

২০২৩ সালে ঈদুল ফিতরে দেশে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৮ জন নিহত ও ৫৬৫ জন আহত হন। ১৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৬৭, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
২০২৩ সালে ঈদুল আজহায় ৩১২টি দুর্ঘটনায় ৩৪০ জন নিহত এবং ৫৬৯ জন আহত হন। ৯১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ৯৪ জন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
২০২৪ সালে ঈদুল ফিতরে ৪১৯টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও ১ হাজার ৪২৪ জন আহত হন। সেবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে ছিল মোটরসাইকেল, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০২৪ সালে ঈদুল আজহায় ৩০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন নিহত ও ৭৬২ জন আহত হন।
২০২৫ সালে ঈদুল ফিতরের ১৫ দিনে ৩৪০টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হন, দুর্ঘটনায় ৮৩৫ জন আহত হন। সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে মোটরসাইকেল ঘিরে। ঈদযাত্রায় সড়ক-মহাসড়কে ১৩৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫১ জন নিহত হন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪২ শতাংশ।
২০২৫ সালে ঈদুল আজহায় সারা দেশে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৯০ জন ও আহত হন ১ হাজার ১৮২ জন। ১৩৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৪৭ জন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
সড়কে দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি। সড়ক ও পরিবহনের ধরন অনুযায়ী গতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।-ঢাকা আহছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্পের সমন্বয়কারী শারমিন রহমান
এ পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দেয়, ঈদযাত্রার আনন্দের সঙ্গে লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। বিগত সব সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দাবি করে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বাস্তবে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় কতটা ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ঈদুল ফিতর নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বেশ কিছু নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশের নিরাপত্তা পরামর্শে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঈদের ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। ভ্রমণকালে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাখুন। চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ দেবেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাসের ছাদ কিংবা ট্রাক, পিকআপ ও অন্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকবেন।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রার সময় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত। আমরা চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছি না। যাত্রীদের কাছে অনুরোধ থাকবে- সংকটের সময় কিছুটা ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের সময় চালকরা যেমন তাড়াহুড়া করেন, বাস মালিকরাও বেশি আয়ের জন্য অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করতে চালকদের প্ররোচিত করেন। এসব থেকে যদি মালিকরা বিরত থাকেন ও চালকদের যদি তারা শান্তিতে গাড়ি চালাতে দেন তাহলে দুর্ঘটনার শঙ্কা কমে যায়।’
তিনি বলেন, ‘চালকরা ঈদের সময় নির্ঘুমভাবে গাড়ি চালায়। কোনো বিশ্রাম না নিয়ে একটার পর একটা ট্রিপে যেতেই থাকে যতক্ষণ যাত্রী পাওয়া যায়। কিন্তু চালকদের দায়িত্ব হলো যাত্রীদের ঠিকমতো গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। এটি কিন্তু একটি ইবাদতের কাজ। কারণ ঘরমুখো মানুষ আপনজনের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তাই চালক হিসেবে যাত্রীদের যদি আপনজনের কাছে পৌঁছে দেন তাহলেই যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা হবে।’
মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি যাত্রী বহন ও ভারী মালামাল থাকলে চালকের পক্ষে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়। তখন পাশ দিয়ে বড় যানবাহন গেলে পেছনে বাতাসের যে টান থাকে সেটির সঙ্গে দক্ষ হলেও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। ফলে মোটরসাইকেলে লম্বা যাত্রাপথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্ঘটনা ঘটে।-কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ
যদি টাকার কথা ভেবে ট্রিপ বেশি পাওয়ার জন্য না ঘুমিয়ে গাড়ি চালায়, তাহলে কাজটা সুষ্ঠুভাবে হবে না জানিয়ে বলেন, ‘বেশি ট্রিপ নেওয়া মূলত চালকদের অভ্যাস। তাই বাস মালিকরা যদি তাদের সুযোগ না দেন তাহলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু মালিকরা চালকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এ কারণে তারা যত বেশি সম্ভব ট্রিপের চেষ্টা করে।’
লক্কড়-ঝক্কড় বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু যানবাহন দেখলেই বোঝা যায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া কোন সড়কে কোন যানবাহন চলাচলের নিয়ম নেই সেগুলো মাথায় রাখতে হবে। যেমন জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা মোটেও নিরাপদ নয়। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিজেকেই ভাবতে হবে বেশি। যাত্রীরা এসব দিকে নজর রাখলে যাত্রাপথ সহজ হতে পারে।’
আরও পড়ুন
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আহ্ছানিয়া মিশনের ৯ সুপারিশ
ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গলার কাঁটা অটোরিকশা
ঈদযাত্রায় সড়কে চাঁদাবাজি আর বাসে বাড়তি ভাড়া চলবে না
ভোগান্তি এড়াতে আগেই শহর ছাড়ছে মানুষ
এবারের ঈদে শঙ্কার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে অটোরিকশা বেড়ে যাওয়ার দিকটি উল্লেখ করেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা মহামারির মতো বেড়েছে। এগুলো বেশি আয়ের আশায় মহাসড়কে চলে আসবে। দু-তিন থেকে ১০ কিলোমিটার পথ পর্যন্ত এক চার্জেই চলাচলের চেষ্টা করবে এগুলো। মহাসড়কেও যাত্রী বহন করে তারা। এ কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, বিশেষ করে রাতে। এক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি দরকার। এর মাধ্যমে পথচারীদের দুর্ঘটনায় পড়া রোধ করা সম্ভব।’
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্পের সমন্বয়কারী শারমিন রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ হলো- যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি। সড়ক ও পরিবহনের ধরন অনুযায়ী গতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী উভয়েরই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে।’
আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন এবং মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। হাইওয়েতে অটোরিকশা, ইজি বাইকের মতো তিন চাকার অবৈধ যানবাহন ও মোটরসাইকেলের কারণে ঘটা দুর্ঘটনা রোধে পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।-হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা
সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ে যেহেতু বিভ্রান্তি রয়েছে, সেহেতু সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রদানে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনাগুলো বিবেচনায় এনে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তিনি।
ঈদ কেন্দ্র করে সড়কে ঝুঁকি বাড়ে, এ বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করে তুলেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ। তিনি বলেন, ‘ঈদে তিন ধরনের দুর্ঘটনা বেশি হয়। এক. মুখোমুখি সংঘর্ষ, দুই. যানবাহন উল্টে যাওয়া ও ৩. পথচারীকে ধাক্কা। ঈদের সময় অনেক সড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় চালকদের মধ্যে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বাড়ে। আবার বেশি ট্রিপ দেওয়ার চাপও থাকে। ফলে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিং বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
শুধু ঈদের আগে নয়, ঈদের পরেও সড়কে নজরদারি জোরদার রাখা জরুরি। মোটরসাইলে দুর্ঘটনার বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘ঈদে মোটরসাইকেলে দীর্ঘ রুটে যাতায়াত করেন অনেকে। মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি যাত্রী বহন ও ভারী মালামাল থাকলে চালকের পক্ষে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়। তখন পাশ দিয়ে বড় যানবাহন গেলে পেছনে বাতাসের যে টান থাকে সেটির সঙ্গে দক্ষ হলেও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। ফলে মোটরসাইকেলে লম্বা যাত্রাপথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্ঘটনা ঘটে।’
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা জাগো নিউজকে বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন এবং মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। হাইওয়েতে অটোরিকশা, ইজি বাইকের মতো তিন চাকার অবৈধ যানবাহন ও মোটরসাইকেলের কারণে ঘটা দুর্ঘটনা রোধে পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
এ কাজ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো ব্যস্ত রাস্তায় আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রায় ৬৬২টি পয়েন্ট বা সংযোগস্থল রয়েছে। এই সংযোগস্থলগুলো দিয়ে ফিডার রোড থেকে অনেক সময় ছোট যানবাহন মূল মহাসড়কে উঠে আসে।’
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান বলেন, ‘ফিডার রোডে এসব যানবাহনের বৈধতা থাকলেও মহাসড়কে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হাইওয়েতে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনোভাবেই এসব যানবাহনকে মহাসড়কে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, গতবারের তুলনায় এবারের যাত্রা আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল হবে।
এক নজরে সড়ক পরিবহন আইন
বাংলাদেশে চালক ও পথচারী উভয়ের জন্য কঠোর বিধান যুক্ত করে ২০১৯ সাল থেকে কার্যকর করা হয়েছে বহুল আলোচিত ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’। ২০১৮ সালে ঢাকার দুই কলেজ শিক্ষার্থী সড়কে বাসচাপায় প্রাণ হারানোর পর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন আইন পাস করে সরকার। তার ১৪ মাস পর ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে সেটি কার্যকর হয়।
সড়ক পরিবহন আইনে বেশ কিছু বিধান রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো-
- সড়কে গাড়ি চালিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা করলে ৩০২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড।
- সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে বা প্রতিযোগিতা করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। আদালত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।
- মোটরযান দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতর আহত বা প্রাণহানি হলে চালকের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান বা গণপরিবহন চালানোর দায়ে ছয় মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
- নিবন্ধন ছাড়া মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
- ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার ও প্রদর্শন করলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
- ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
- ট্রাফিক সংকেত মেনে না চললে এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দণ্ডিত করা হবে।
- সঠিক স্থানে মোটর যান পার্কিং না করলে বা নির্ধারিত স্থানে যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা না করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
- গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে এক মাসের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।
- একজন চালক প্রতিবার আইন অমান্য করলে তার পয়েন্ট বিয়োগ হবে এবং এক পর্যায়ে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।
- গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া, দাবি বা আদায় করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে চালককে অষ্টম শ্রেণি পাস ও চালকের সহকারীকে পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে। আগে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
- গাড়ি চালানোর জন্য বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। এই বিধান আগেও ছিল।
এছাড়া, সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসলে এক মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
টিটি/এএসএ/এমএফএ
টাইমলাইন
- ১২:৫৭ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ট্রেনে ঈদের ফিরতি যাত্রা: ২৮ মার্চের টিকিট মিলবে বুধবার
- ১২:৩৬ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ যানজট নেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ
- ১২:৩৩ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ নারায়ণগঞ্জে অধিক মূল্যে বাসের টিকিট বিক্রি, জরিমানা
- ১২:২৭ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ যাত্রীর চাপহীন নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা
- ১২:২১ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ঈদের ছুটিতে গাজীপুর ছাড়ছেন ঘরমুখী মানুষ
- ১১:২১ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ‘ট্রেনের টিকিট পাইনি, তাই বাসে যাচ্ছি’
- ১১:১১ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ যাত্রী সংকটে বাস, কাউন্টারে পরিবহন শ্রমিকদের হাঁক-ডাক
- ১১:১১ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত, সবাই একই পরিবারের
- ১১:০৩ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ঈদযাত্রার আরেক নাম ‘মৃত্যুর মিছিল’
- ১০:০৫ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ অব্যবস্থাপনা আর দখলে বগুড়া শহরে তীব্র যানজট
- ০৯:৩৯ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা
- ০৯:২৫ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে মানুষ
- ০৯:১৮ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ঈদযাত্রা: কমিউটার ট্রেনের টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইন
- ০৮:৪৮ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের স্রোত
- ০৮:২২ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ যমুনা সেতু দিয়ে একদিনে ৩৫ হাজার গাড়ি পারাপার
- ০৮:২১ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ঈদে বাড়ি ফেরা: বাস-রিকশা-মোটরবাইকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ
- ০৮:১৮ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে, একদিনে টোল ৩ কোটি
- ০৮:০৭ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ ঝুঁকি জেনেও মোটরসাইকেলে ২০ লাখ পরিবারের ঈদযাত্রা
- ০৮:০৭ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ যানজটপ্রবণ ২৬০ জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে: সেতুমন্ত্রী
- ০৮:৫৩ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যার পর দূরপাল্লার বাসে চাপ বেড়েছে, কাউন্টারে ভিড়
- ০৫:৪৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ অফিস শেষে ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে, পথে পথে তীব্র যানজট
- ০৫:০৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ ঈদযাত্রায় বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, সেবা নিশ্চিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- ০৪:১৯ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ ইউরোপ-আমেরিকা যাত্রায় যুদ্ধের ধাক্কা, ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ
- ০৪:০১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ ঈদে সদরঘাটে কুলি সেবা ফ্রি, থাকবে ২০০ স্বেচ্ছাসেবক
- ০৩:৪৫ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ সদরঘাটে ফ্রি হুইলচেয়ার সেবা, সহজে লঞ্চে উঠতে পেরে খুশি রোকেয়া বেগম
- ০২:২৪ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ ঈদে যাত্রীসেবায় প্রস্তুত সদরঘাট, বাড়ি ফিরবেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ
- ০১:৫৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ সদরঘাটে হয়রানি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ, ভাড়া কমছে ১০ শতাংশ
- ০১:০৭ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ চাপ বেড়েছে যমুনা সেতু মহাসড়কে, একদিনে টোল ২ কোটি ৩৯ লাখ
- ১২:৪০ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ ঈদযাত্রায় ভোগাবে যেসব মহাসড়ক
- ১২:১০ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ ঈদ এলে প্রতিবছর চন্দ্রাতে কেন যানজট লেগে থাকে
- ১১:১৩ এএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ আজই শুরু হচ্ছে ঈদযাত্রা, যানজট এড়াতে ধাপে ধাপে ছুটি হবে পোশাক কারখানা
- ০৯:৫৬ এএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ শ্রীমঙ্গলে তীব্র যানজটে ভোগান্তি, বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি
- ০৯:৪৬ এএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ জানা গেলো সড়কে ঈদযাত্রায় বাস সংকটের কারণ
- ০৮:০৯ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬ যে কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিবছর যানজট
- ০২:৫৮ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬ যমুনা সেতুতে একদিনে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা টোল আদায়
- ১০:৪৮ এএম, ১৫ মার্চ ২০২৬ ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গলার কাঁটা অটোরিকশা