রোদে স্বস্তি, রাজধানীতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে অবশেষে আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত সূর্যের। গত কয়েক দিনের তুলনায় কুয়াশার দাপট কমে এসেছে। ফলে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। এতে রাজধানী ঢাকার জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি ও কর্মচাঞ্চল্য।

কয়েক দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যাডেলচালিত ও ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও বাসে যাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে। রাস্তাঘাটে যানবাহনের চলাচল ছিল স্বাভাবিকের কাছাকাছি।

সরেজমিনে রাজধানীর লালবাগ, ধানমন্ডি, রমনা, তেজগাঁও ও গুলশান এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এ সময় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

রোদে স্বস্তি, রাজধানীতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

গত কয়েক দিন ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকায় জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা কাজকর্মে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েন। তবে আজ সকাল গড়িয়ে রোদের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে মানুষের কর্মতৎপরতা বাড়তে দেখা গেছে। ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে বড় শপিংমলগুলোতেও ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়।

আরও পড়ুন
হাড় কাঁপানো শীত, তবু থেমে নেই জীবন

তবে সূর্যের দেখা মিললেও কনকনে হিমেল হাওয়া পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। রোদ ও হিমেল হাওয়ার এই লড়াইয়ে শীতের আমেজ এখনো বেশ প্রবল। পথচারীদের গায়ে ভারী জ্যাকেট, সোয়েটার ও মাফলার জড়িয়েই চলাচল করতে দেখা গেছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোদের কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও উত্তর দিক থেকে আসা বাতাসের কারণে ঠান্ডার অনুভূতি বজায় রয়েছে।

গত কয়েক দিন তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি। তবে আজ চিত্র ছিল ভিন্ন। রাস্তায় রিকশা, বাস ও সিএনজির সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসযাত্রীদের মাঝেও বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন সড়কের পাশে শিশু ও বয়স্কদের রোদ পোহাতে দেখা যায়।

রোদে স্বস্তি, রাজধানীতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় আব্দুর রহিম নামে এক রিকশাচালক বলেন, ‘কদিন তীব্র শীত আর কুয়াশায় রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। প্যাডেল হাঁকাতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসতো। আজ রোদ ওঠায় একটু শান্তি লাগছে, যাত্রীও বেশি পাচ্ছি।’

শেষ বিকেলের দিকে রোদের তেজ কমে আসায় হিমেল হাওয়ার দাপট আবার কিছুটা বাড়তে দেখা গেছে। তবে কয়েক দিনের গুমোট ও স্থবির আবহাওয়ার পর আজকের এই রোদ ঢাকাবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং দৈনন্দিন কাজে গতি এনেছে।

এমইউ/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।