বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৪ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)/ফাইল ছবি

নেদারল্যান্ডসের Withlocals নামের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণা চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) ও হৃদয় হাসান (২১)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠিয়েছিল। নিজেদের সেই বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের (ভুক্তভোগী) নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে। এরপর বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভুক্তভোগী ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এভাবে অন্তত একজন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানার মামলা করেন।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন খান বলেন, অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২১) দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল। গতকাল (৭ জানুয়ারি) সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল তৌহিদ ভূঁইয়াকে (২১) জামালপুর স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হৃদয় হাসানকে (২১) একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার কাছ থেকে জব্দ করা স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করতেন। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসানের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের তথ্য জানিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন বলেন, হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তিনি নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টে কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিলেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভিকটিমের সংখ্যা এবং চক্রের অন্য সহযোগীদের শনাক্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান সিআইডির কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন।

কেআর/এমএমকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।