বয়স্ক-বিধবা-অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাসিক ভাতা বাড়ছে ৫০ টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫২ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম ভাতার মাসিক হার ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কি কমিটি। প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে মাসিক ৬৫০ টাকা ভাতা বেড়ে ৭০০ টাকা হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া বিভিন্ন ভাতার হার বৃদ্ধি, হ্রাস বা অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য ১৩ জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় কার্যকরী কমিটি (ওয়ার্কিং কমিটি) গঠন করে সরকার।

কমিটিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চারটি কর্মসূচি-বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি)’ কর্মসূচি পর্যালোচনা করতে বলা হয়।

ভাতার হার পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ভোক্তা মূল্যসূচক-কে বেঞ্চমার্ক অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়। বছরে অন্তত একবার ভাতার হার পর্যালোচনা করে কমিটিকে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন অর্থ সচিবের কাছে জমা দিতে বলা হয়।

কমিটি গঠনের পর দিন ১৪ জানুয়ারি কমিটির সভাপতি অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সমন্বয়) মো. হাসানুল মতিন’র সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম ভাতা মাসিক ৫০ টাকা করে বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন কমিটির সদস্যরা।

সভায় জানানো হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা হার নির্ধারণে মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) গড় হার ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে ভাতার হার ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতায় ৬১ লাখ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী ভাতার আওতায় ২৯ লাখ এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ভাতা কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ২১ হাজার মানুষ ভাতা পাচ্ছেন। তিনটি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে শুধু মাসিক ভাতা ৫০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়ানো হলে বয়স্কভাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩৮৮ কোটি ২০ লাখ টাকাসহ মোট ৫ হাজার ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়া বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১৭৫ কোটি ৪ লাখ টাকাসহ মোট ২ হাজার ৪৫২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ভাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকাসহ মোট ১৮৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে।

এদিকে বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী বৃত্তি বা মেধাবৃত্তির হার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বৃত্তি বা মেধাবৃত্তির হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতার হার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির দৈনিক দৈনিক মজুরির হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এমএএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।