ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে মেলা বসবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের বাইরে মেলা বসলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে কোনো মেলা বসবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
একজন উপদেষ্টা বলেছেন কেন্দ্রের আশপাশে মেলা বসাতে, তবে আপনি বলছেন যারা ভোটার তাদের পথ যেন মসৃণ থাকে। এটা সাংঘর্ষিক কি না- এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, না কন্ট্রাডিক্ট করে না। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে বলতে কিন্তু ওই... আমরা বলিনি এত গজ এত। একটু দূরে করবে, দূরে বসবে। ৪০০ গজের ভেতরে বসবে না।
এর আগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছিলেন, যদি সম্ভব হয় ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মেলা করে দাও। সবাই মেলায় আসবে, মেলায় কেনাবেচা হবে। বাণিজ্যও হলো আবার ভোটও দিয়ে আসলো।
সংসদ নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি আছে কি না- প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এই প্রশ্ন এক বছর ধরে আসছে। আমি এই এক বছর ধরেই বলছি কোনো ঝুঁকি নেই, এখনো বলছি ঝুঁকি নেই।
আরও পড়ুন
নির্বাচনে কোনো প্রার্থী থেকে খাবার-আর্থিক সুবিধা নেওয়া যাবে না
নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ আচরণের নির্দেশ সেনাপ্রধানের
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারে, তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। যদি আস্থা হারায়, তবে শক্তি দিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয়। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও অবৈধ ও বেআইনি আদেশ মানা যাবে না- সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা যেন কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো প্রকার অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ না করেন। এমনকি দায়িত্ব পালনকালে তাদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো খাবারও গ্রহণ না করেন- সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। সেলে জরুরি যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর: ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২-৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩ এবং মোবাইল নম্বর: ০১৫৫০-০৬৪২২৬ (Whats app) ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যে কোনো অভিযোগের জন্য নম্বরগুলোতে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
টিটি/কেএসআর