লুৎফে সিদ্দিকী

নির্বাচন ঘিরে ফেসবুকের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা হবে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে সুস্পষ্ট উপলব্ধি রয়েছে/ফাইল ছবি

নির্বাচন ঘিরে সরকারের সঙ্গে ফেসবুকের রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর বক্তব্য, উসকানিমূলক কনটেন্ট ও অপতথ্য মোকাবিলায় ফেসবুকের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

তিনি জানান, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট উপলব্ধি রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে যে কোনো পক্ষ থেকেই ক্ষতিকর বক্তব্য বা উসকানি আসতে পারে- এটি তারা ভালোভাবেই অনুধাবন করছে।

লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, সরকারের সঙ্গে মেটার সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে কখনো খুব শক্তিশালী, কখনো কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় দুই পক্ষের মধ্যে দাবি-পাল্টা দাবির কারণে দীর্ঘদিন আলোচনা ও দরকষাকষি চলেছে। তবে একাধিক দফা আলোচনার পর বিষয়গুলো এখন একটি গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক জায়গায় এসেছে। শুরুতে মেটার মধ্যে উদ্বেগ ছিল- আইনের কোনো লঙ্ঘন হলে সরকার কঠোর শাস্তিমূলক অবস্থান নেবে কি না। পরে আইনি কাঠামো কিছুটা পরিমার্জনের মাধ্যমে সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। ফলে বর্তমানে দুই পক্ষের সম্পর্ক একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষ দূত জানান, মেটার পলিসি ও এনফোর্সমেন্ট টিম নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অপতথ্য মোকাবিলায় তাদের বিশেষ টুলস নিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এরই মধ্যে কর্মশালা করেছে বা করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা মেটার একজন সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে খুব শিগগির তার ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রিয়েল-টাইম যোগাযোগ নিশ্চিত করা। এখন যোগাযোগ থাকলেও অনেক সময় তা মিনিট-বাই-মিনিট ভিত্তিতে কার্যকর হয় না। মেটার পক্ষ থেকেই প্রস্তাব এসেছে, জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হবে। এ যোগাযোগ শুধু ব্যক্তিগতভাবে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গেও শেয়ার করা হবে।

সংক্ষেপে পরিস্থিতি তুলে ধরে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, এ মুহূর্তে ফেসবুকের কাছ থেকে সরকার খুব ভালো সহযোগিতা পাচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত ইস্যু নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়। আগে যেখানে বিষয়টিকে কারিগরি পর্যায়ে দেখা হতো, এখন সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

এমইউ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।