নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে জাতীয় সংসদ, চারদিকে নিরাপত্তা বলয়
মফিজুল সাদিক মফিজুল সাদিক , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য চেয়ার আনা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সবুজ মাঠ হলুদ গাদা, নানান জাত ও রঙের কসমসসহ বিভিন্ন ফুলে ফুলে সেজেছে। কয়েকজন মালি এসব ফুলে পানি দিচ্ছেন। সবুজ মাঠের ঘাস কেটে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে।
সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শতাধিক অস্থায়ী দোকান ছিল। সেগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। প্রথমে সরকারি দল অর্থাৎ বিএনপি জোট, এরপর জামায়াত-এনসিপি জোট, পরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন।
একই দিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে জানিয়েছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা।

শপথ ঘিরে সংসদ ভবনের শপথকক্ষ ঢেলে সাজানো হয়েছে। শপথকক্ষের চেয়ারগুলো ঘষামাজা করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন কিছু চেয়ার হারিয়ে গেছে। ফলে নতুন করে কিছু চেয়ার সংযোজন করা হয়েছে।
দেশের প্রধানতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন। এই ভবনে সংসদ প্লেনারি হলসহ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ ভিআইপিদের অফিস রয়েছে। ভবনটি প্রায় ৪৫ বছর আগে নির্মিত। জাতীয় সংসদ ভবন এবং এর সঙ্গে সব স্থাপনা লুই আই কানের স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণ করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণও করছে। সংস্কার করাসহ অনেক আসবাবপত্র ছিল। কিন্তু সব কিছুই নতুন করে সংস্কার ও সংযোজন করা হয়েছে।
শপথ কেন্দ্রে করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ভিভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ছাদের ওপরে রেড ব্রিকের স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার ফলে ব্রিক সারফেস এবং ছাদের উপরিতলের সিরামিক ব্রিক জয়েন্টের কার্যকারিতা কমে গেছে। এগুলোও নতুন করে ঠিক করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের ওয়াকওয়েগুলো (ফুটপাত) নষ্ট হয়ে গেছিল। এগুলো ধোয়া-মোছা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সব জায়গা অপরিষ্কার ছিল। পানি দিয়ে সব কিছু পরিষ্কার করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস অফিসের চাহিদা মোতাবেক আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এগুলো সবই চুরি হয়েছিল। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক লোড বৃদ্ধির কারণে নরমাল এবং ইমারজেন্সি সাব-মেইন ক্যাবলের আধুনিকায়ন, জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় অবস্থিত চারটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের জন্য এলটি সুইচ গিয়ার ও বাসবার ট্রাংকিং স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজ, ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিভিন্ন সভা কক্ষের সৌন্দর্যবর্ধন এবং মন্ত্রী হোস্টেল ব্লকে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্টুডিও নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো কিছুই ছিল না। ৫ আগস্ট সবগুলোই ভেঙেচুরে নষ্ট করা হয়। সব কিছু সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮০০’র বেশি কম্পিউটার ও সিকিউরিটি ডিভাইজ কেনা হয়েছে। এগুলোও চুরি হয়েছে।
মন্ত্রী হোস্টেল এলাকায় জরাজীর্ণ পুলিশ ব্যারাকটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ক্যাবিনেট কক্ষ, স্থায়ী কমিটি কক্ষ-১, ২ ও ৩ এবং শপথ কক্ষের আধুনিকায়ন কাজ করা হয়েছে। নতুন করে রং দেওয়া হয়েছে। কিছু চেয়ার হারিয়ে গেছে। সেগুলো কেনা হয়েছে।

পূর্ত কাজের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। অধিবেশন কক্ষ নতুন করে সজ্জিত করা হয়েছে। কিছু চেয়ার নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে শপথকক্ষে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করতে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করছি।’
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট গত শুক্রবার রাতে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
এমওএস/এমএমএআর