সংসদে মন্ত্রী

আদানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সালিশি আদালতে যাওয়ার চিন্তা সরকারের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬
আদানি গ্রুপের অফিস ভবন/ ছবি- সংগৃহীত

ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে হওয়া বিদ্যুত কেনার চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার চিন্তা করছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি সই হয়েছে। ওই চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থসহ চুক্তি সংশোধন সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-১৫) শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন
দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই: সংসদে মন্ত্রী 
আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি এখন গলার কাঁটা: বিদ্যুৎ মন্ত্রী 

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিডেটের সঙ্গে ২0১৭ সালে সাক্ষরিত বিদ্যুত ক্রয়ের চুক্তি পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়। চুক্তিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে সই করেছে বলে জাতীয় কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অথবা আদানি পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তি সংশোধন ইত্যাদি বিষয়সমূহ সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

এদিন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)। সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন- জ্বালানি তেলের সংকট নেই। যারা যাচ্ছেন যথাযথ সেবা পাচ্ছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি, সবাই প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় মন্ত্রীরা এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। জ্বালানিমন্ত্রী এই সমস্যাটি স্বীকার করার পরিবর্তে আগের মতো সমস্যা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পাম্পে যে পরিমাণ তেল প্রতিদিন দেওয়ার কথা, সেই পরিমাণ তেল আমাদের পাম্পগুলোতে সাপ্লাই করা হচ্ছে। কিন্তু ইরান ঘটনার পর থেকে হঠাৎ করে বিক্রি বেড়ে গেছে। বিক্রি বেড়ে যাওয়ার ফলে এই পেট্রোল পাম্পে যে পরিমাণ তেল দিতাম একদিন দেড় দিন লাগতো বিক্রি করতে, এখন দুই ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। সেজন্য মানুষের যে প্যানিক বায়িংটা শুরু হয়েছে, লাইন দেখা যায় কিন্তু পেট্রোল সাপ্লাই হয় না- এটা ঠিক না। পেট্রোল প্রতিদিন সাপ্লাই করা হয়।

এমওএস/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।