হঠাৎ বিসিবি সভাপতি হিসেবে নতুন নাম, শুধুই গুঞ্জন না বাস্তবতাও আছে?
বাংলাদেশের ক্রিকেটে গুঞ্জন, গুজব, অসার গল্পের শেষ নেই। হয়তো অতি উৎসাহের কারণেই এমনটা হয়। দর্শক-পাঠক সবারই ক্রিকেট নিয়ে দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা, রাজ্যের উৎসাহ-উদ্দীপনা। মিডিয়ারও শেষ নেই। তারাও সবসময় তেতে থাকে, মুখিয়ে থাকে নতুন নতুন খবর দিতে।
এই যেমন আজ দুপুর থেকে হঠাৎ খবর- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হচ্ছেন বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, যিনি মোহামেডানের নতুন সভাপতিও হয়েছেন সম্প্রতি। এতকাল শোনা যেত, বোর্ড পরিচালক পর্ষদ ভাঙলে ভবিষ্যৎ বোর্ড চেয়ারম্যান হতে পারেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
অবশ্য তার আগে গত অক্টোবরের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন নিয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালক পর্ষদের ভবিষ্যৎ। কাজেই কারও নতুন বিসিবি সভাপতি হওয়ার আপাতত কোনো সম্ভাবনা ও অবকাশ নেই। কারণ আগে বর্তমান বোর্ড ভাঙার প্রশ্ন, তারপর বিসিবি ও এনএসসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রশ্ন। সেই আহ্বায়ক কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিসিবি পরিচালক পর্ষদের নির্বাচন আয়োজন করবে।
কাজেই এ মুহূর্তে কারও বোর্ড সভাপতি হওয়ারও সুযোগ নেই। বোর্ড ভাঙলে আগে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হবে এবং সেক্ষেত্রে নতুন কাউকে আহ্বায়ক করা হতে পারে, সভাপতি নয়। কাজেই বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ, ঝানু রাজনীতিবিদ, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক প্রধান বরকত উল্লাহ বুলু যদি বোর্ড প্রধান হনও, তবে সভাপতি হিসেবে নয়; তিনি বড়জোর আপাতত বা আগামীতে আহ্বায়ক কমিটি হলে তার আহ্বায়ক হতে পারেন।
যারা বরকত উল্লাহ বুলুকে তামিম কিংবা ফারুক আহমেদের জায়গায় বিসিবি সভাপতি বলে অভিহিত করছেন, তারা বিসিবি ও ক্রীড়া ফেডারেশনের অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠনতন্ত্রটাই ঠিকমতো জানেন না। কারণ সত্যিই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভাঙলে আগে হবে আহ্বায়ক কমিটি। সেই কমিটি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করে পুরো পরিচালক পর্ষদ গঠনের কাজ করবে।
কাজেই যেই হোন না কেন, এখন সর্বোচ্চ বিসিবি আহ্বায়ক হতে পারবেন, সভাপতি নন। যেহেতু আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালক পর্ষদের বিপক্ষে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং সেই কমিটি কাজ করছে, ধারণা করা হচ্ছে আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে এই বোর্ড থাকবে কি থাকবে না।
যদি বোর্ড ভাঙে, তবে আগে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হবে। কাজেই নতুন কেউ আহ্বায়ক হতে পারেন, সভাপতি নন।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গত অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন, নানা কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের অভিযোগ এনেছে ঢাকার ৫০টি ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। তদন্ত কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইদুজ্জামান জাগো নিউজকে কয়েকদিন আগে জানিয়েছেন, তারা ৯ এপ্রিলের আগে তথা ১৫ কর্মদিবস পূর্ণ হওয়ার আগেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন এবং তাদের সুপারিশ দেবেন।
যেখানে তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং তদন্ত এগিয়ে চলছে, তার মধ্যেই নতুন করে বিসিবি প্রধান হিসেবে উঠে এসেছে বিশিষ্ট বিএনপি নেতা ও মোহামেডানের সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলুর নাম। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- এটা কিভাবে সম্ভব? বোর্ড এখনো ভাঙাই হয়নি।
যদি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতদুষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে, তখন এনএসসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে বোর্ড ভেঙে গেলে গঠন করা হবে আহ্বায়ক কমিটি। সেই আহ্বায়ক কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ গঠন করবে। এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান, এটাই চূড়ান্ত কথা।
এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত দেয়নি এবং সুপারিশও প্রণয়ন করেনি। এর মধ্যেই নতুন করে বিসিবি সভাপতি নিয়োগের গুঞ্জনে অনলাইন, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে কিছু জানি না।’ তিনি বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি, যা স্বাভাবিকও বটে। কারণ তদন্ত কমিটি তিনিই গঠন করেছেন এবং সেই কমিটি এখনো কাজ করছে।
এ অবস্থায় এই ধরনের খবরকে ক্রীড়ামন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য না করলেও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন। আগে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, তারপর এনএসসির সিদ্ধান্ত- বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলে গঠন হবে আহ্বায়ক কমিটি। সেই আহ্বায়ক কমিটির প্রধান কে হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এআরবি/আইএইচএস