ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ শিশুদের প্রাণঘাতী হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নতুন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করেছে সরকার, তবে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়নি। এর ফলে ইমার্জিং টোবাকো প্রোডাক্টের মতো নেশাদ্রব্য শিশু-কিশোরদের কাছে বিক্রিতে বিক্রেতাদের কোনো বাধা নেই। নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ শিশুদের প্রাণঘাতী হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ: শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের নিকোটিনে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা যে কোনো বয়সীদের কাছে এই নেশাদ্রব্য বিক্রয় করবে।

দেশের ৬টি তামাকবিরোধী সংগঠন- বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), পাবলিক হেলথ ল' ইয়ার্স নেটওয়ার্ক (পিএইচএল), তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) ও সিটিজেন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট (সিএসডি) যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তামাক ব্যবহার হ্রাসের জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি পাস করায় আমরা সরকারকে অভিনন্দন জানাই। তবে বিলটি পাসের ক্ষেত্রে ইমার্জিং টোবাকো প্রোডাক্ট (ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট) ইত্যাদি দ্রব্যকে ধারা ২(গ) সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

এই বিলুপ্তির প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসরণ করেনি, যা সত্যিই দুঃখজনক। ফলে এই নতুন দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কার্যত বাংলাদেশে কোনো আইন রইলো না বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোবাকো প্রডাক্ট বাংলাদেশে প্রসারের ক্ষেত্রে দুটি বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ পন্থা রয়েছে। এক, আমদানি আদেশের আওতায় এ দেশে ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই, আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। ফলে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোবাকো প্রোডাক্ট প্রসারের প্রচেষ্টা আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপন্থি।

বক্তারা বলেন, আমদানি আদেশে নিষিদ্ধ, অধ্যাদেশে নিষিদ্ধ, আপিল বিভাগের নির্দেশনা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশে এই দ্রব্যের ব্যবহার কম থাকার পরও দেশের অর্থনীতির কথা বলে এই নতুন নেশা দ্রব্যের নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দেশে বাজার সৃষ্টি করার সুযোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বাংলাদেশে ইমাজিং টোবাকো প্রোডাক্টের ব্যবহার নেই বললেই চলে। দেশের অর্থনীতির দোহাই দিয়ে এ বিধান বাতিল সত্যিই দুঃখজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি।

সিএসডির আহ্বায়ক একেএম মাকসুদের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটসের আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, বিএনটিটিপি’র টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক মো. বজলুর রহমান, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও শিশু বিশেষজ্ঞ শাহ ইসরাত আজমেরী, বাটার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শাগুফতা সুলতানা, তাবিনাজের সমন্বয়ক সীমা দাস সীমু ও পিএইচএলের অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা কুমকুম।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ফারহানা জামান লিজা এবং সঞ্চালনা করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ সামিউল হাসান সজীব।

ইএইচটি/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।