রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল

ঈদযাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ৯০টি ইঞ্জিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ১১ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

আসন্ন কোরবানির ঈদযাত্রায় নির্বিঘ্নে যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৯০টি ইঞ্জিন প্রস্তুত করা হচ্ছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দুই বিভাগে (পাহাড়তলী ও ঢাকা) লোকোমোটিভ কারখানায় এসব ইঞ্জিন মেরামত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক বলেন, ঈদুল আজহায় নির্বিঘ্নে যাত্রী পরিবহনের জন্য আমাদের দুই বিভাগে ৯০টি ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে। আমরা পাহাড়তলী ডিজেল শপে ৫৫টি ইঞ্জিন মেরামত করছি। ঢাকা বিভাগে ৩৫টি ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৬টির মেরামত শেষ করেছি। ঈদকে সামনে রেখে পাহাড়তলী ডিজেল শপে পুরনো ইঞ্জিনগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেছি আগে থেকেই। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি ইঞ্জিন মেরামত করা হয়।

ডিজেল শপে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ লোকবলের সংকট রয়েছে স্বীকার করে রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক বলেন, দক্ষ লোকবল না থাকায় নতুন লোকবল দিয়ে ইঞ্জিন মেরামতের কাজ করাতে হচ্ছে। ইঞ্জিন মেরামতে যে মানের যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়, সেই মানের যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে রেলের বহরে মোট ইঞ্জিন রয়েছে ২৯৭টি। এর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন ১৬৭টি ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন ১৩০টি। রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। ৫১ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল রয়েছে রেলওয়েতে এমন ইঞ্জিনের সংখ্যা ১৪৭টি। বাকি ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫০টি ও ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রয়েছে ১৬টি। অবশিষ্ট ৮৪টি ইঞ্জিনের বয়স ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে।

এবার কোরবানির ঈদযাত্রায় পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৯০ থেকে ৯৫টির মতো লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গত বছর ঈদুল ফিতরে ৮৮টি ইঞ্জিন পেয়েছিলাম। ঈদুল আজহায় ৯০ থেকে ৯৫টির মতো টার্গেট করেছি। এর মধ্যে যতটা পাওয়া যায়। আমাদের দুই বিভাগ থেকে ইঞ্জিনের চাহিদা দেওয়া হয়। ঈদে কতটি ট্রেন চলবে দুই বিভাগ থেকে চাহিদা পাওয়ার পর আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পাহাড়তলী কারখানা এবং ঢাকা কারখানায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১০০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন হলেও প্রতিদিন পাওয়া যায় ৭৮ থেকে ৮০টি। ঈদের সময় মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। তাই ওইদিক থেকে কিছু ইঞ্জিন পাওয়া যায়।

এমডিআইএইচ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।