চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ০৮ মে ২০২৬
ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর ২০২৬’, ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে এসেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর ২০২৬’। শুক্রবার (৮ মে) জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামুদ্রিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদারের অংশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজটি বাংলাদেশ সফরে এসেছে।

বহুজাতিক অভিযানের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বন্দরগুলো সফর করছে ‘আইওএস সাগর ২০২৬’। এ সফর ভারতীয় ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের পর জাহাজটিকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিএনএস আলী হায়দার (এফ-১৭)। পরে বিএনএস আলী হায়দার ভারতীয় জাহাজটিকে এসকর্ট করে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসে।

জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন কূটনৈতিক ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে আইওএস সাগরের অধিনায়ক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, নৌবহর কমান্ডার এবং ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকের মাধ্যমে দুই নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সফরসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানোরও আয়োজন করা হবে।

পাশাপাশি আইওএস সাগরের পক্ষ থেকেও একটি ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হবে, যেখানে দুই দেশের নৌ সদস্যরা অংশ নেবেন। স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামের কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেট্রিতে একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে যৌথ ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে সামুদ্রিক লজিস্টিকস ও বন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হবে।

পরবর্তীতে উভয় পক্ষের নৌ সদস্যদের মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও জাহাজ পরিদর্শন কর্মসূচিও থাকবে। প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আইওএস সাগরের নৌ সদস্যরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও নৌ একাডেমি পরিদর্শন করবেন। এতে দুই দেশের নৌ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পারস্পরিক ধারণা আরো গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উভয় নৌবাহিনীর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথাও রয়েছে, যা দুই বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

চট্টগ্রাম সফরকে ভারত সরকারের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এমডিআইএইচ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।