পাহাড়ের কোলে বেড়ে ওঠা গরুতে ভরপুর রাঙ্গামাটির মাইনীমুখ হাট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙামাটি
প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ১৭ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় পশুর হাট মাইনীমুখ। এ হাটে পাওয়া যায় পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা দেশি জাতের গরু। তবে এবার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচেপড়া ভিড় থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১৬ মে) মাইনী ও কাচালং নদীর মোহনায় অবস্থিত এ প্রাচীন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে।

লংগদু উপজেলার খামারি বশির মিয়া সাড়ে চার মণ ওজনের একটি দেশি ষাঁড় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আগে ৮০ হাজার টাকায় কিনে লালন-পালন করেছিলাম। ৬৫ হাজার টাকা বেশি পেলেও খাবার ও পরিচর্যার খরচ বাদ দিলে লাভ খুব সীমিত। এবার বাজার কিছুটা নরম।’

মৌসুমি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন জানান, ১৬টি গরু কিনেছিলেন। কিন্তু গত হাটে চারটি গরু বিক্রি করে তার ৪০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। আজ দুটি গরু মাত্র পাঁচ হাজার টাকা লাভে বিক্রি করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ের দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিবছর এখান থেকে গরু কিনি। এবার কেনার দাম কিছুটা কম হলেও পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’

তিনি ও তার সহযোগীরা ১৮টি গরু কিনে নৌপথে রাঙ্গামাটি হয়ে ট্রাকে করে চট্টগ্রামে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাঙ্গামাটির মাইনীমুখ হাটে পাহাড়ের কোলে বেড়ে ওঠা দেশি গরুর ভিড়

মাইনীমুখ বাজারের ইজারাদার সনজিত দাশ জানান, এবার হাটে গরু-ছাগলের জোগান অন্য বছরের তুলনায় কম। বরকল উপজেলার সুবলং বাজারে নতুন বড় হাট বসায় অনেক খামারি সরাসরি সেখানে চলে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য বছর এ হাট থেকে আট থেকে ১০ লাখ টাকা হাসিল আদায় হলেও এবার পাঁচ লাখ টাকা ওঠানোই কঠিন হবে। আমরা প্রতি গরু থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং ছাগল থেকে ২০০ টাকা হাসিল নিচ্ছি, যা সরকারি হারের চেয়ে কম।

মাইনীমুখ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, নৌ ও সড়কপথের ভালো সুবিধা থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। কোরবানির মৌসুমে এই হাটে কোটি কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হয়।

হাটে পশুর চিকিৎসায় নিয়মিত কাজ করছে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। টিমের প্রধান ও লংগদু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রতন দে বলেন, ‘হাটে আসা অধিকাংশ পশুই সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট। তবে গাদাগাদি এবং বোটে ওঠানো-নামানোর সময় অনেক পশু আহত হয়। আমরা সেগুলোর চিকিৎসা দিচ্ছি। পাশাপাশি কোনো গাভী গর্ভবতী কি না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’

আবু দারদা খান আরমান/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।