চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী দিদার হত্যা মামলা তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:২৭ পিএম, ১৭ মে ২০২৬
নিহত ব্যবসায়ী দিদার/ ছবি- সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী দিদার হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনাস্থল থেকে জনতার হাতে এক আসামি হাতেনাতে আটক হলেও এতদিনে মূল আসামি আবু জাফরকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্বজনদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী দিদার হত্যা মামলায় তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। পুলিশ মূল আসামিকেও গ্রেফতার করছে না। গত ১০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড হয়।

নিহত দিদারুল আলমের একটি স্টেশনারি দোকান ছিল নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন সুলতানা বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জনতার হাতে আটক হওয়া আসামি আবু তৈয়ব (৪৮) এক সময় নিহত দিদারুল আলমের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। অসদাচরণসহ নানান অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই তিনি দিদারুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। গত ১০ এপ্রিল ঘটনার দিন রাতে দিদার গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকায় আসামিরা হামলা চালায়।

আরও পড়ুন
সাবেক মেয়র আইভীর কারামুক্তিতে বাধা নেই 
পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়েই দুজনকে কুপিয়ে জখম 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইট দিয়ে মাথা, মুখ ও চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে আবু তৈয়বকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর পুলিশ ১নং আসামিকে গ্রেফতার করলেও মামলার দ্বিতীয় আসামি এখনো পলাতক। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আর কারা কারা জড়িত তা অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হলেও পুলিশ সে বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এ মামলায় একজন আসামি গ্রেফতার থাকলেও দুই নম্বর আসামি এখনো পলাতক। তাকে গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এরপরও যদি তদন্তে অগ্রগতি না হয় বা পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা না যায়, তাহলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার উপ-পরিদর্শক জুয়েল মজুমদার বলেন, ব্যবসায়ী দিদার আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু তৈয়ব গ্রেফতার রয়েছেন। অন্য আসামিকেও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে আসেনি। পাশাপাশি আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ে পটিয়া থানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পটিয়া থানার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আদালতে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

এমডিআইএইচ/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।